ভালুকা-ত্রিশালে অপরাধ বৃদ্ধি, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ দুই নয়া ওসি

ভালুকা-ত্রিশালে অপরাধ বৃদ্ধি, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ দুই নয়া ওসি

পপি আসমা সিদ্দিকা, ময়মনসিংহ থেকে: ময়মনসিংহের ভালুকা মডেল থানা ও ত্রিশাল উপজেলায় দিন দিন অপরাধের মাত্রা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। চুরি, ছিনতাই, মাদক কারবার, সন্ত্রাসী হামলা, খুন, গণধর্ষণ, মহাসড়কে ডাকাতি ও হানাহানির ঘটনায় জনমনে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, থানাগুলোর দায়িত্বপ্রাপ্ত ওসিদের ব্যর্থতার কারণেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির এমন অবনতি ঘটেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পুলিশের সাম্প্রতিক গণবদলির কারণে নতুন পোস্টিং পাওয়া কর্মকর্তারা এলাকায় মানিয়ে নিতে সময় নিচ্ছেন। ফলে অপরাধ দমনে তাৎক্ষণিক কার্যকর উদ্যোগ নিতে কিছুটা ঘাটতি দেখা যাচ্ছে বলেও মনে করছেন অনেকে। অভিযোগ রয়েছে, লটারির মাধ্যমে দায়িত্বপ্রাপ্ত দুই নয়া ওসির মধ্যে ত্রিশাল থানার ওসি মোহাম্মদ ফিরোজ হোসেন এবং ভালুকা মডেল থানার ওসি জাহিদুল ইসলাম যোগদানের পর থেকেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছেন। স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে শিল্পাঞ্চল ও ঘনবসতিপূর্ণ এই দুই এলাকায় নবনিযুক্ত কর্মকর্তাদের অদক্ষতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

তবে দুই ওসি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে জানান, তারা দীর্ঘদিন এসবি শাখায় কর্মরত ছিলেন। থানার সার্বিক পরিস্থিতি বুঝে উঠতে কিছুটা সময় প্রয়োজন। তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সাংবাদিকদের সহযোগিতাও কামনা করেন। জানা গেছে, ত্রিশাল থানার ওসি মোহাম্মদ ফিরোজ হোসেন এর আগে কোতোয়ালি মডেল থানায় মাত্র ১৭ দিন দায়িত্ব পালন করেন। সে সময় বিভিন্ন বিতর্কিত ঘটনায় জড়িয়ে পড়ায় তাকে পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হয়েছিল। সম্প্রতি গণপিটুনি দিয়ে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার একটি ঘটনায় তার ভূমিকা নিয়েও এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা চলছে। এছাড়া গত কয়েকদিনে মহাসড়কে ডাকাতি, গণধর্ষণ, প্রবাসীর বাড়িতে প্রকাশ্যে ডাকাতি ও পৌর এলাকায় চুরির ঘটনা বেড়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় নেতাকর্মীরা দাবি করেন, ভালুকা ও ত্রিশালের মতো শিল্প ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজন অভিজ্ঞ ও মাঠপর্যায়ের দক্ষ নেতৃত্ব। বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্বাচনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে বড় ধরনের দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে উঠছে। ভুক্তভোগীরা জানান, একের পর এক অপরাধ সংঘটিত হলেও অনেক ক্ষেত্রে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। এতে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। তারা দ্রুত কঠোর পদক্ষেপ ও সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে ত্রিশাল থানার ওসি মোহাম্মদ ফিরোজ হোসেন বলেন, “আমি নতুন যোগদান করেছি। পরিস্থিতি বুঝে কাজ করতে একটু সময় লাগবে। যোগদানের সঙ্গে সঙ্গেই সংবাদ প্রকাশ হলে কাজের ব্যাঘাত ঘটতে পারে। ভালুকা মডেল থানার ওসি জাহিদুল ইসলাম বলেন,“ভালুকা একটি বড় শিল্প এলাকা, তাই অপরাধের চাপ তুলনামূলক বেশি। পুলিশ সদস্যের সংখ্যাও সীমিত। ইতোমধ্যে অভিযান শুরু হয়েছে। আশা করি পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসবে, ইনশাল্লাহ।”

( এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। )

Comments are closed.




© All rights reserved © 2024 websitenews24.com