আওয়ামী লীগ নেতা সাংবাদিক হতে ৩০ লাখ টাকা দেন সম্পাদককে!

আওয়ামী লীগ নেতা সাংবাদিক হতে ৩০ লাখ টাকা দেন সম্পাদককে!

নিজস্ব প্রতিবেদক :  দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ’-এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মো. খায়রুল আলম রফিক সাংবাদিক বানানোর কথা বলে আওয়ামী লীগ নেতা মোঃ শহিদুল ইসলামের নিকট থেকে নিয়োগপত্রের মাধ্যমে ৩০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে আদালতের নির্দেশে রাজধানীর পল্টন থানায় একটি মামলা রুজু হয়েছে। মামলাটি দণ্ডবিধির ৪২০, ৪০৬, ৪৬৭, ৪৬৮ ও ৫০৬ ধারায় (মামলা নং-০৭, তারিখ: ০৮/০৭/২০২৬)।

মামলার আরজিতে অভিযোগ করা হয়েছে, নিয়োগপত্রের মাধ্যমে প্রতারণা ও জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে বাদীর কাছ থেকে ৩০ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে। তবে মামলার আবেদনের সঙ্গে অর্থ লেনদেনের কোনো প্রত্যক্ষ দলিল, রসিদ বা লিখিত প্রমাণ সংযুক্ত করেনি বাদী আওয়ামী লীগ নেতা শহিদুল ইসলাম।মামলার বাদী মো. শহিদুল ইসলাম অভিযোগ করেছেন, তাকে সাংবাদিক বানানোর কথা বলে আসামি প্রতারণার মাধ্যমে তাঁর কাছ থেকে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। পরে টাকা ফেরত চাইতে গেলে ২০২৬ সালের ২২ জুন দুপুর ২টার দিকে ঢাকার ৬০/১, পুরানা পল্টন এলাকায় তাঁকে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

অন্যদিকে, বিবাদী মো. খায়রুল আলম রফিক এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, অভিযোগে উল্লেখিত দিন ও সময়ে তিনি ময়মনসিংহের ত্রিশাল পৌরসভার নিজ বাসভবনে অবস্থান করছিলেন এবং এর পক্ষে সিসিটিভি ফুটেজসহ প্রয়োজনীয় প্রমাণ রয়েছে। তাঁর ভাষায়, “এটি একটি সাজানো মামলা। আদালতে আমি ন্যায়বিচার পাব বলে বিশ্বাস করি।” তবে একজন নতুন সাংবাদিক ৩০ লাখ টাকা কোথায় পেলেন? কোন ব্যাংক থেকে টাকা তুলে আমাকে দেন কোন প্রমান দেখাতে পারেনি সাংবাদিকদের। তবে সাংবাদিক নেতারা দাবি করেন এটা সাজানো একটি মামলা।

সাংবাদিক খায়রুল আলম রফিক বলেন, মামলার বাদী শহিদুল ইসলাম ফরিদপুরের ভাঙ্গা থানা আওয়ামী লীগের নেতা। আওয়ামী লীগের এমপি নিক্সনচৌধুরী ও শহিদুল ইসলামসহ ১০৬ জনের মামলা হয়েছে। যার মামলা নং- ৮২। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার বাদী ইতিপূর্বে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের বিরুদ্ধে অশ্লীল মানহানিকর মন্তব্য করার অভিযোগে দুটি মামলা হয়। শহিদুল ইসলামসহ ৮০ জনের নামে পিবিআই অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলা নং- ৭৫৪/২০২৫।

রফিক আরও বলেন, বাদীসহ কয়েকজন ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে আসছেন। এ বিষয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সাইবার অপরাধ ও মানহানির অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা নং-১০ (তারিখ: ১৬/০৩/২০২৬) এবং ময়মনসিংহের আদালতে শহিদুল ইসলাম, মির্জা সুবেদ আলী রাজাসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা (মামলা নং-৩৪৯/২৬) বিচারাধীন রয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, তাঁর দায়ের করা মামলাগুলোর প্রতিক্রিয়ায় প্রতিশোধমূলক উদ্দেশ্যে বর্তমান মামলাটি করা হয়েছে। রফিক বলেন, “যে কেউ মামলা করতে পারেন। অভিযোগের সত্যতা আদালতেই প্রমাণ হবে।”এদিকে, বিবাদী খায়রুল আলম রফিকের দাবি, মামলার বাদী আওয়ামী লীগ নেতা শহিদুল ইসলাম এবং মামলার ৩ নম্বর সাক্ষী মির্জা সুবেদ আলী রাজার বিরুদ্ধেও আমার পৃথক মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

( এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। )

Comments are closed.




© All rights reserved © 2024 websitenews24.com