পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্মকর্তা ময়েজ উদ্দিনের বিপুল সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন

পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্মকর্তা ময়েজ উদ্দিনের বিপুল সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক : পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাব ডিভিশনাল ইঞ্জিনিয়ার (এসডিই) মোঃ ময়েজ উদ্দিন–এর বিরুদ্ধে হাজার কোটি টাকা দুর্নীতি করে সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জে কর্মকালীন সময়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। সংশ্লিষ্টদের দাবি, উচ্চপর্যায়ের কর্তাদের ম্যানেজ করেই তিনি দীর্ঘদিন অনিয়ম চালিয়ে গেছেন।

স্বৈরাচারী নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী আত্মগোপনে গেলেও ময়েজ উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিলেন। পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে তিনি আগেভাগেই চাকরি থেকে অব্যাহতি নেন এবং কালো টাকা সাদা করার উদ্দেশ্যে ডেভেলপার কোম্পানির সঙ্গে ফ্ল্যাট কেনাবেচার ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজশাহীর আর্মি ক্যান্টনমেন্ট গেট কাঁচাবাজার এলাকায় ১৯৯৪ সালে নির্মিত একটি বাড়িসহ তার নামে-বেনামে রয়েছে একাধিক ফ্ল্যাট ও বিপুল পরিমাণ ব্যাংক জমা। রাজশাহীতে পাঁচতলা বাড়ি, কসমোপলিটন বিল্ডিংয়ের দশতলায় নদীমুখী ফ্ল্যাট, আলুপট্টির স্বচ্ছ টাওয়ার ও তেরখাদিয়া হাউজিং এস্টেটে একাধিক ফ্ল্যাট, ঢাকার বনানী ও বসুন্ধরা আবাসিকে ফ্ল্যাট এবং পার্টনারশিপে বহুতল ভবনের মালিকানার তথ্য পাওয়া গেছে।

এছাড়াও ময়মনসিংহের ভালুকা ও ঢাকার টঙ্গীতে জিও ব্যাগ কারখানায় অংশীদারিত্বের অভিযোগ রয়েছে, যেখান থেকে ঠিকাদারদের নদীর বাঁধ নির্মাণে জিও ব্যাগ কিনতে বাধ্য করা হতো বলে দাবি করা হয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহীর বিভিন্ন এলাকায় তার নামে-বেনামে জমিসহ আরও সম্পদ রয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

একসময় দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে রাজশাহী পলিটেকনিক থেকে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করে সরকারি চাকরিতে যোগ দিলেও অনৈতিক পথে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়া নিয়ে রাজশাহীজুড়ে ব্যাপক গুঞ্জন সৃষ্টি হয়েছে। তার ব্যক্তিগত দুটি প্রাইভেট গাড়ি, ঢাকায় যাতায়াতে বিমান ব্যবহারের নানা প্রমাণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রয়েছে বলেও দাবি করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, গত ৩০ ডিসেম্বর খন্দকার রউফ ইসলাম নামে এক ব্যক্তি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), ঢাকায় ময়েজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

এ বিষয়ে সাবেক পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাবেক ইঞ্জিনিয়ার মোঃ ময়েজ উদ্দিন–এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের দশ ভাগ সত্য আর নব্বই ভাগই মিথ্যা। আমার কাছের কেউ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সাংবাদিকদের ভুল তথ্য দিয়ে আমাকে সমাজে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করছে।”

( এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। )

Comments are closed.




© All rights reserved © 2024 websitenews24.com