সানজিদা শারমিন, কুড়িগ্রাম : কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী উপজেলায় ভুয়া সাংবাদিকদের দৌরাত্ম্য চরমে উঠেছে। নিজেদের গাড়ি, মোটরসাইকেল ও ক্যামেরায় ‘প্রেস’ ও টেলিভিশন চ্যানেলের স্টিকার লাগিয়ে তারা বিভিন্ন পেশার মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা আদায় করছে। এতে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ছেন প্রকৃত পেশাদার সাংবাদিকরা।
অভিযোগ রয়েছে— এসব ভুয়া সাংবাদিকরা জাল আইডি কার্ড ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে সংবাদ প্রকাশের ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল করে। আবার কেউ কেউ ইউটিউবভিত্তিক নামসর্বস্ব চ্যানেলের পরিচয়পত্র ব্যবহার করে নিজেদের বড় কোনো গণমাধ্যমের প্রতিনিধি হিসেবে পরিচয় দেয়। ফলে সাধারণ মানুষ এদের প্রতারণার ফাঁদে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।এদের চেহারা–চালচলন এমন যে, অনেক সময় অভিজ্ঞ সাংবাদিকরাও প্রথমে তাদের প্রকৃত পরিচয় বুঝে উঠতে পারেন না। ক্যামেরায় টিভির স্টিকার ও গলায় পরিচয়পত্র ঝুলিয়ে তারা অবাধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের কাজে হস্তক্ষেপের চেষ্টা চালায়।
থানা পুলিশও অতিষ্ঠ এদের তদবিরের চাপ ও অপতৎপরতায় পুলিশও ভোগান্তিতে পড়ে। অভিযোগ রয়েছে—এরা থানায় গিয়ে মামলার আসামিদের হয়ে তদবির করে পুলিশ সদস্যদের ‘আব্বা-চাচা’ সম্বোধন করে নিজের প্রভাব খাটায় ঘুষ–দালালি ও সোর্স হিসেবে যুক্ত থাকে রাতের বেলায় থানা এলাকায় আড্ডাবাজি আর দিনের বেলায় ‘সাংবাদিক সেজে’ মাসোহারা—ইটাই তাদের মূল কাজ। চাঁদাবাজি থেকে বড় অপরাধে
সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে তারা জড়িয়ে পড়ছে—ছিনতাই চাঁদাবাজি জমি ও দোকান দখল ধর্ষণ ও নারী নির্যাতন মাদক ব্যবসা এদের অপকর্মে মানুষের মাঝে সাংবাদিকতা পেশার প্রতি বিরূপ মনোভাব সৃষ্টি হচ্ছে বলে জানান স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা।
কঠোর ব্যবস্থা প্রয়োজন পেশাদার সাংবাদিকদের অভিযোগ—শুধু পুলিশি অভিযান নয়, সাংবাদিক ইউনিয়ন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোনিজ নিজ পরিচয় যাচাইয়ে কঠোর অবস্থান না নিলে ভুয়া সাংবাদিক দমনে অগ্রগতি হবে না।তারা বলেন—ভুয়া সাংবাদিকদের কারণে প্রকৃত সাংবাদিকদের সম্মান ও সুনাম বিপন্ন হচ্ছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পেশার বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট হবে।”