জালাল উদ্দীন, সিরাজগঞ্জ থেকে : পেটে বোমা মারলেও দু’লাইন লেখার যোগ্যতা নেই, অথচ রিপোর্টার ও ভুয়া সম্পাদক পরিচয়ে তারাই খুলে বসেছে বহুমুখী প্রতারণার বাণিজ্য। সংবাদিকতার নাম ভাঙিয়ে ভুয়া সাংবাদিকদের তৎপরতা দিনে দিনে বেড়েই চলেছে। যত্রতত্র ফেসবুক লাইভ, নামসর্বস্ব পত্রিকা ও অনলাইনের প্রেস লেখা স্টিকার ও আইডি কার্ড ঝুলিয়ে অবাধে চলাচল করছে সাংবাদিক নামধারী ভুয়া ব্যক্তিরা।
সিরাজগঞ্জ, কুড়িগ্রাম ও রংপুর এলাকায় ভুয়া সাংবাদিকদের দৌরাত্ম্যে অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ। নামসর্বস্ব পত্রিকা ও অনিবন্ধিত ভুঁইফোঁড় জনপথ সংবাদ নিউজ পোর্টালের নামে কিছু আসাধু লোক সাংবাদিক পরিচয়ে জনসাধারণের কাছ থেকে প্রতারণা করে হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকা। তারা যখন যেখানে ইচ্ছে হানা দিচ্ছে, সাধারণ মানুষকে ব্ল্যাকমেইল করে ভয়ভীতি দেখিয়ে ফাঁদে ফেলছে।
এতে সাংবাদিকতার মতো একটি মহান পেশার মর্যাদা হুমকির মুখে পড়েছে। ভুয়া সাংবাদিকদের অপ্রতিরোধ্য দৌরাত্ম্যে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন প্রকৃত ও পেশাদার সাংবাদিকেরা। পাশাপাশি বিরক্ত হচ্ছেন প্রশাসনের লোকজন। তবে এসব প্রতারকের বিরুদ্ধে তেমন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। মাঝেমধ্যে প্রতারণার অভিযোগে দু-একজন গ্রেপ্তার হলেও জেল থেকে বের হয়ে ফের একই অপকর্মে লিপ্ত হচ্ছে তারা। এমন একজন ভুয়া সাংবাদিকের নাম এম এ জাফর লিটন।
সাংবাদিকতার নামে প্রতারকদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির আওতায় আনার তাগিদ দিয়েছেন পেশাদার সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা। পাশাপাশি গণমাধ্যম ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণেরও তাগিদ দিয়েছেন তারা। তবে ভুয়া সাংবাদিক শনাক্তের পাশাপাশি অপসাংবাদিকতা রোধে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল।
সিরাজগঞ্জ প্রেসক্লাবের এক সাংবাদিক বলছেন, গত ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর দেশের বিভিন্ন স্থানে অপরাধীরাও নিজেকে বাঁচাতে গলায় ভুঁইফোঁড় অনলাইন ও পত্রিকার কার্ড ঝুঁলিয়ে সাংবাদিক বনে গেছেন। এমননি একজন এম এ জাফর লিটন।