আতিকুল কবির, কুড়িগ্রাম : কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারীতে অপারেশন ‘ডেভিল হান্ট’-এর নামে গ্রেপ্তার অভিযান এখন চরম উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, থানার ওসি আল হেলাল মাহমুদের নেতৃত্বে চলছে নিরপরাধ মানুষকে হয়রানি ও গ্রেপ্তার–বাণিজ্য। স্থানীয়দের দাবি—গ্রেপ্তার আতঙ্কে সাধারণ মানুষের রাত কেটে যাচ্ছে ভয়ে; রেহাই পাচ্ছেন না ৭০ বছরের বৃদ্ধরাও। চায়ের আমন্ত্রণে থানায় নেওয়া হলো ৭৩ বছরের বৃদ্ধকে ভুক্তভোগী রহমানের স্ত্রী সাজেদা বেগম জানান, গত বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাতে তার স্বামী মো. সুন্দর আকন্দ (৭৩)–কে পাশের গ্রামের একটি দোকান থেকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
তিনি বলেন,“ওসি সাহেব নাকি চায়ের দাওয়াত দিয়েছেন—এমন কথা বলে এসআই জাহিদ আমার স্বামীকে তুলে নিয়ে যায়। পরে জানতে পারি, তাকে থানায় আটকে রাখা হয়েছে।”ক্ষমতাসীন দলের নেতারা ঘুরে বেড়ালেও ধরা পড়ছে সাধারণ মানুষ এলাকাবাসীর অভিযোগ, ভুরুঙ্গামারীর বিভিন্ন এলাকায় ক্ষমতাসীন দলের—নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের—নেতা–কর্মীরা বীরদর্পে চলাফেরা করলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। বরং নিরাপরাধ সাধারণ মানুষকেই টার্গেট করে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।
ওসির জবাব: “রাজনৈতিক মামলায় গ্রেপ্তার”: একজন গণমাধ্যমকর্মী যখন সুন্দর আকন্দকে কেন গ্রেপ্তার করা হয়েছে জানতে চান, ওসি আল হেলাল মাহমুদ বিষয়টি এড়িয়ে বলেন—“একটি রাজনৈতিক মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যাচাই–বাছাই চলছে, একটু সময় দিন।” এ বক্তব্যে আরও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে—৭৩ বছরের বৃদ্ধ কোন রাজনৈতিক মামলার সঙ্গে যুক্ত? মোটরসাইকেল চুরি মামলাকারীকেই উল্টো চাপ অন্য এক ভুক্তভোগী জানান, মোটরসাইকেল চুরি হওয়ায় থানায় মামলা করলে পুলিশ উল্টো তাকে মামলা তুলে নেওয়ার চাপ দিতে থাকে। পুলিশের কথায়—“মোটরসাইকেল কোথায় আছে তুমি জানো—তা বলো।”অভিযোগ, সাহায্য পাওয়ার বদলে থানাই তাকে চাপ প্রয়োগের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করেছে। এলাকাবাসীর দাবি, অপারেশন ডেভিল হান্ট চালু হওয়ার পর প্রতিদিন রাতেই ওসি আল হেলাল মাহমুদের ‘গোপন ব্যবসা’ সক্রিয় থাকে। অভিযোগগুলো হলো—স্থানীয়দের মতে,“এভাবে ভুক্তভোগী তৈরি করে কোনো অপারেশন চালানো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাজ হতে পারে না।”