নিজস্ব প্রতিবেদক: মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার গুপ্তের কানি গ্রামে মো. শাহিন সুমন নামের এক ছাত্রনেতাকে হত্যার উদ্দেশ্যে নৃশংসভাবে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতকর্মীদের বিরুদ্ধে। শুক্রবার রাত ৭টা থেকে ৭টা ৩০ মিনিটের মধ্যে এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। আহত শাহিন সুমন সরকারি তিতুমীর কলেজের নিষিদ্ধ বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর থেকেই তিনি স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতের কর্মীদের হুমকি ও চাপের মুখে ছিলেন বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয়রা জানান, ওই রাতে বিএনপির নেতা শামীম মাহমুদ ও জামায়াতের আমীর জিয়া হাসানের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী শাহিন সুমনের ওপর হামলা চালায়। তারা লাঠি, চাকু ও মেটাল টাইপের অস্ত্র ব্যবহার করে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে মারাত্মকভাবে প্রহার করে। হামলার পর গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়দের সহায়তায় তিনি প্রাণে রক্ষা পান। ভুক্তভোগীর বাবা মো. আইজুদ্দিন খান জানান, ঘটনার পর তিনি শিবচর থানায় মামলা দায়ের করতে গেলে পুলিশ অভিযোগ গ্রহণে অস্বীকৃতি জানায়। তিনি অভিযোগ করেন, স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি আমলে নেয়নি এবং হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
এরপর থেকেই হামলার মূল পরিকল্পনাকারী শামীম ও জিয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শাহিন সুমন ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে হত্যার হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। এমনকি তাদের নিয়ে মুখ খুললে ঘরবাড়ি ভাঙচুরের হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শাহিন সুমন। তিনি বলেন, “আমি বাংলাদেশে গেলে তারা আমাকে মেরে ফেলবে বলে হুমকি দিচ্ছে। আমি কোনো আইনি সহায়তা পাচ্ছি না। আমার পরিবারের নিরাপত্তা এখন চরম ঝুঁকিতে। এ ঘটনায় স্থানীয় এলাকাজুড়ে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসী প্রশাসনের কাছে দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার এবং ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।