লিজা আক্তার : ময়মনসিংহ যৌনপল্লীতে দালালদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হচ্ছে যৌনপল্লীর বাসিন্দারা। যৌনপল্লির ২টি বাড়ির যৌনকর্মীরা জিম্মি হয়ে পড়েছে ৬ দালাল ও ৩ কথিত সাংবাদিকের হাতে। যৌনপল্লীতে দালালদের চাঁদাবাজির খাই মেটাতে সারা দিনের রোজগারের টাকার সিংহভাগই তুলে দিতে হচ্ছে তাদের হাতে। এর ফলে এক প্রকার অভুক্ত থেকেই দিন কাটাতে হচ্ছে অনেককেই। দীর্ঘদিন ধরে চলে আশা দালালের এই অত্যাচারের প্রতিবাদে রাস্তায় নামার চিন্তা করছে ভুক্তভোগি যৌনকর্মীরা। ১৩ জুন ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসক বরাবরে স্মারকলিপি দিয়েছেন যৌন পল্লী বাসিন্দারা। ২৪ ঘন্টার মধ্যে চাঁদাবাজদের গ্রেফতার না করলে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি কোথাও উল্লেখ করেছেন।
ময়মনসিংহ নগরীর রমেশ সেন রোড পতিতা পল্লীর ২টি বাড়ি। পতিতা পল্লিতে প্রায় ১শ ছোট ছোট ঘরে গাদাগাদি করে থাকে ৩০০ শতাধিক যৌনকর্মী বসবাস করে। এই পতিতা পল্লি গুলির দেখভাল করেন সদর ফাঁড়ি পুলিশ। পতিতাদের চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের হাত থেকে রক্ষাসহ সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের দায়িত্ব পুলিশের ওপর থাকলেও তারা করেন উল্টোটা। সহযোগিতা করে দালাল নামধারী কিছু মাদক ব্যবসায়ি ও কথিত সাংবাদিক ।
তাদের মধ্যে যুব লীগ নেতা ইয়াবা কারবারি কথিত সাংবাদিক বিল্লাল হোসেন মানিক, কথিত সাংবাদিক সাংবাদিক সুমন ভট্টাচার্য, কথিত মানবাধিকার কর্মী সাদেকুর রহমান সাদিক ও নগরীর শীর্ষ সন্ত্রাসী সাবেক লীগ নেতা আজাদের ভাই ইয়াবা কারবারি দ্বীন ইসলামসহ আরও ৪/৫ জন দালাল। তাদের অযাচিত হস্তক্ষেপে অতিষ্ঠ হয়ে পড়ছে পতিতারা। তাদের নামে পুলিশের কাছে অভিযোগ জানালেও পতিতাদের দায়িত্বে থাকা সদর পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা উল্টো ফাঁসিয়ে দেয় পতিতাদের। এরপরই নানা কায়দায় পতিতাদের অত্যাচার করে ওই ৬ দালাল। তাদের ঘরে খদ্দের ঢুকতে না দেওয়াসহ,খদ্দেরদের ধরে ইয়াবা গাঁজাসহ চালান দেওয়ার অভিযোগও আছে। এছাড়াও খদ্দেরদের কাছ থেকে ছিনতাই করে এমনও অভিযোগ রয়েছে দালালদের বিরুদ্ধে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে পতিতা পল্লীর বাসিন্দাদের বেশিরভাগই জানিয়েছেন, তাদের হয়রানির কথা। তারা জানান, প্রতিমাসে ঘর প্রতি দালাল ও কথিত সাংবাদিকদের দিতে হয় ২ হাজার টাকা। দেশের অন্যকোন যৌনকর্মী।
এছাড়াও কোন যৌনকর্মী ফাঁড়ি পুলিশকে না জানিয়ে পল্লির বাইরে গেলেই আদায় করা হয় ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত। তাদের অভিযোগ, গায়ের জোরে কথিত সাংবাদিক বনে যাওয়া বিল্লাল হোসেন মানিক ও সুমন ভট্টাচার্য পুলিশের ভয় দেখিয়ে টাকা দাবি করে। টাকা না দিলে নতুন নতুন ঘটনা সাজিয়ে শুকতারা কল্যাণ সংস্থার নেতৃবৃন্দদের মামলা আসামি করা হয়। যৌনকর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে মুখ বুজে সহ্য করছেন এই চাঁদাবাজি। প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছে না। তাদের প্রতিবাদ ফাঁড়ি পুলিশ কর্ণপাতও করছেন না। উপরোন্ত নানা ভাবে হয়রানি করে যাচ্ছে তারা। যৌনকর্মীরা জানায়, একতো আগেরমত আর তাদের আয় রোজগার নেই। তারপরও কোন রকম যা আয় হচ্ছে তা দালাল ও কথিত সাংবাদিকরা ছিনিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। ফলে তাদের বেঁচে থাকা দায় হয়ে পড়েছে।