ময়মনসিংহে ওসি বদলি-পদায়নে বিতর্ক থামছেই না

ময়মনসিংহে ওসি বদলি-পদায়নে বিতর্ক থামছেই না

বিশেষ প্রতিনিধি: আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের মানুষ প্রত্যাশা করেছিল অন্তর্র্বতী সরকার আইনের যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে আওয়ামী অপরাধীদের বিরুদ্ধে সুবিচার নিশ্চিত করবে। তবে বাস্তব চিত্র পুরোপুরি ভিন্ন। গুম, খুন, অপহরণ ও সীমাহীন দুর্নীতিতে অভিযুক্ত আওয়ামী সন্ত্রাসীদের যেখানে জেলের ঘানি টানার কথা, সেখানে কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেয়ে সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে যাচ্ছে। একটি গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যমতে, ময়মনসিংহে ছাত্র-জনতার ওপর গুলি ও হামলায় অভিযুক্ত প্রায় ২৮০ জন প্রভাবশালী আ’লীগ নেতাকর্মী গত এক মাসে মুক্তি পেয়ে টাকার বিনিময়ে আত্মগোপনে চলে গেছে। বিষয়টি রহস্যজনক। অথচ ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের হওয়া অন্যান্য গুরুতর মামলায় তাদের পুনরায় গ্রেপ্তার দেখানোর বাধ্যবাধকতা ছিল। মুক্তির পরপরই এসব নেতা-কর্মী প্রকাশ্যে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্তর্র্বতী সরকার, রাষ্ট্র ও গণঅভ্যুত্থানের নেতাদের বিরুদ্ধে ভূয়া ফেসবুক আইডি খুলে উসকানিমূলক প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। এমনকি যারা জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের সময় ছাত্র-জনতার ওপর সরাসরি হামলা ও ষড়যন্ত্র করেছিলেন, তাদের বেশিরভাগের নামে এখনো কোনো মামলা হয়নি। তারা বিভিন্ন কৌশন অবলম্বন করে নগরিতেই বসবাস করছে।

পুলিশের নির্ভরযোগ্য তথ্যমতে, আওয়ামী সরকারের আমলে ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের এক কর্মকর্তা এখনো গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল আছেন, যে কারণে তারা আওয়ামী নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে অনীহা দেখাচ্ছেন। এমনকি পুলিশের গোপন তথ্য ও অভিযানসংক্রান্ত গোয়েন্দা বার্তা অভিযুক্তদের কাছে আগেই ফাঁস হয়ে যাচ্ছে। একটি গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যমতে, গত এক মাসে ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে প্রায় ২৮০ জন আ’লীগ নেতা-কর্মী ময়মনসিংহ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। যারা বের হয়েছেন তাদের প্রত্যেকেই স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী ও সম্পদশালী। এরা বর্তমানে গ্রাম থেকে শুরু করে থানা, জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ গোছানোর কাজ শুরু করছেন বলে একাধিক সুত্র জানিয়েছে। পুলিশের বিশেষ ব্রাঞ্চের (এসবি) এক কর্মকর্তা জানান, ময়মনসিংহ কেন্দ্রীয় কারাগারে ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগের ৭৫০ জনের বেশি নেতাকর্মী বন্দি ছিলেন। বর্তমানে গ্রেপ্তারও কম, মামলাও কম। চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে অন্তর্র্বতী সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী ও সন্ত্রসীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে থাকলেও ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ দেখা গেছে ভিন্নচিত্র। অনেক সময় দেখা যায় সেনাবাহিনীর অভিযানে রাঘববোয়লরা গ্রেফতার হলেও পুুলিশের অভিযান ঢিলেঢালা।

আদালত থেকে জামিনে বের হওয়ার সময় কারাগারে গেইটে হাজতিদের সাথে কথা বলেন জেলা পুলিশের একজন দায়িত্বশীল ডিএসবি’র কর্মকর্তা। তার চাহিদা মত টাকা পেলে কারাগার থেকে বের হওয়ার সুযোগ করে দেন, না হয় ডিবি- বা থানা পুলিশকে জানিয়ে ধরিয়ে দেয়। ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার সাবেক ওসি শফিকুল ইসলামের বদলির পর ময়মনসিংহ জেলা আ’লীগের সহ-সভাপতি আমিনুল হক শামীম তাকে ফোন করে বলেন, থাকতে তো পারলেন না, আমি আপনাকে যেতে বাধ্য করলাম। যাওয়ার আগে আমার বিদেশে ক্লিয়ারেন্স টা দিয়া যান না হয় আপনাকে দেখে নেব, এমন হুমকি দেয়ার কথা জানিয়েছেন সাবেক ওসি সফিকুল ইসলাম খান।

জানাগেছে, ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ সুপারের নামে জেল গেট থেকে আসা মোটা অংকের টাকা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ), ডিআইও-ওয়ান এর মাধ্যমে ভাগাভাগি হয় এমনটাই জানাগেছে একটি গোপন সুত্রে। শুধু তাই নয়, জেলা পুলিশের এক কতিপয় কর্মকর্তা ও আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতারা আওয়ামীবিরোধী কর্মকর্তাদের নাম হাইকমান্ডের কাছে পাঠাচ্ছেন, তারপর আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকরা পুলিশের এক উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তার মাধ্যমে যেসব পুলিশ সদস্য গ্রেপ্তার অভিযানে সক্রিয় ছিল বা রয়েছে, তাদের বদলি করে দিচ্ছেন এবং আরও বদলি করার চক্রান্ত অব্যাহত রেখেছে। গত ৩ ও ৪ মে একযোগে ময়মনসিংহের ছয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) বদলি করা হয়। অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, এ থানাগুলো গত সাত মাসে আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের গ্রেপ্তার ও অভিযানে ব্যাপক ভূমিকা রাখে। কিন্তু বদলির পর এসব থানায় আওয়ামী নেতাদের গ্রেপ্তার নেই বললেই চলে বরং কারাগার থেকে একের পর এক আ’লীগের নেতাকর্মীরা মুক্তি পেয়ে আত্মগোপনে চলে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে ময়মনসিংহ পুলিশ কর্মকর্তাদের বদলি-পদায়ন নিয়ে চলছে ব্যাপক বিতর্ক।

ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানায় ওসি হিসেবে যোগদান করেছিলেন- পুলিশ পরিদর্শক মিজানুর রহমান। তিনি এর আগে নোয়াখালী সেনবাগ থানার ওসি ছিলেন। জামাত-বিএনপি নেতাকর্মীদের উপর অমানুষিক নির্যাতন, অত্যাচার ও হয়রানির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে সেনবাগ থানায় একটি মামলা হয়। সেই মামলার এজাহারভুক্ত প্রধান আসামী ছিলেন মিজানুর রহমান। এ নিয়ে বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হলে ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার আখতার উল আলম তাকে পদায়নের ৮ ঘন্টার মধ্যেই প্রশাসনিক কারণে পুলিশ লাইনে ক্লোজড করেন। তার পর থেকেই ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি পদায়নে জটিলতা সৃষ্টি হয়। সৎ ও দক্ষ পুলিশ কর্মকর্তা খুঁজতে থাকে জেলা পুলিশ। প্রায় এক মাস পর নেত্রকোণার কলমাকান্দা থানার বিতর্কিত ওসি মোহাম্মদ ফিরোজকে কোতোয়ালী থানায় ওসি হিসেবে পদায়ন করেন। তার যোগদানের পর থেকেই শুরু হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা ও বিভিন্ন ধরনের বিতর্ক। ময়মনসিংহের প্রভাবশালী এক বিএনপি নেতা জানান, ওসি ফিরোজকে পদায়নে সরাসরি সহায়তা করেন ময়মনসিংহের জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সিআইপি আমিনুল হক শামিম। ওসি ফিরোজ যোগদান করার পর ময়মনসিংহ নগরীতে অপরাধের মাত্রা ও হত্যা কান্ড বেড়েই চলছিল। ঠিক ১৯ দিনের মাথায় তাকেও প্রশাসনিক কারণে পুলিশ লাইনে ক্লোজড করা হয়।

অভিযোগ আছে, ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ ফিরোজ এই ১৯ দিনে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পরিবার ও সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে তাদের কাছ থেকে প্রায় ৪৩ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। জামিনে মুক্তির পর ময়মনসিংহ কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে থেকে ধরে এনে ঘুস নেওয়ার ঘটনাও ছিল আলোচনায়। গোপন সুত্রে জানা যায়, এ ঘটনায় অনুসন্ধান করতে গেলে স্থানীয় দুই সাংবাদিককে জেলা পুলিশের এক কর্মকর্তার ইন্ধনে পুলিশের এক সোর্সের মাধ্যমে তাদের সাজানো মামলা দিয়ে হয়রানি করার পরিকল্পনা করেন। এ ঘটনায় প্রকাশ হওয়ায় পর ওসি মোহাম্মদ ফিরোজ ও পুলিশের এক কর্মকর্তাসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স ও প্রধান উপদেষ্টা বরাবরে দুটি লিখিত আবেদন করেন একজন ভুক্তভোগী সাংবাদিক। আবেদনে তাদের জীবনে নিরাপত্তার কথাও উল্লেখ করেন। গত ১৮ মে জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার’র এক আদেশে ভালুকা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. হুমায়ুন কবীরকে ভালুকা মডেল থানার ওসি ও একই থানার পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) সেনবাগ থানায় পুলিশের তালিকায় পলাতক আসামী মিজানুর রহমানকে কোতোয়ালী মডেল থানায় ওসি হিসেবে পদায়ন করা হয়। একজন সেনবাগ থানার এজাহারভুক্ত পলাতক আসামী অন্যজন সিলেট এমসি কলেজের নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক।

অনুসন্ধানে জানাগেছে, ভালুকা মডেল থানার ওসি মো. হুমায়ুন কবীর এর ভেটিং (পরিচিতি যাচাই) এ ২ ধরনের তথ্য পাওয়া গিয়েছে। সিলেট সিএসবি’র সাবেক পুলিশ পরিদর্শক মোঃ সফিকুল ইসলাম খান ও পুলিশ পরিদর্শক মিন্টু দে’র কাছে জানতে চাইলে তারা জানান, মো. হুমায়ুন কবীর এমসি কলেজের নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। এছাড়াও ২০০২ সালের লালা বাজার ইউপি ছাত্রলীগের সভাপতি এবং ২০০৪ ও ২০০৫ সালে দক্ষিন সুরমা ছাত্রলীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক ছিলেন। তিনি সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আজাদ গ্রুপের অনুসারী এবং তার বাবা আব্দুন নূর ছিলেন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা ও ইউপি আ’লীগের আইন সম্পাদক পদে থেকে আমেরিকায় বসবাস করছেন। তার আত্মীয় স্বজন জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী সমর্থিত/নৌকা প্রতীকে প্রার্থীর পক্ষে সমর্থন ও কাজ করার কথা উল্লেখ করেন। সিলেট সিটিএসবি’র পুলিশ পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ এর ভেটিং এ জানা গেছে আরেক তথ্য। তিনি কোন রাজনীতির সাথে জড়িত নয়। তার চাচাতো ভাই শ্রমিক দলের রাজনীতির সাথে জড়িত। এ বিষয়ে ভালুকা মডেল থানার ওসি মো. হুমায়ুন কবীরকে সরকারী মোবাইল ফোনে কল দিলে তিনি বলেন, ভাই এ বিষয়ে ফোনে কথা বলবো না, থানায় আসুন, বলে কেটে দেন।এবিষয়ে ময়মনসিংহ পুলিশ সুপার আখতার উল আলম জানান, পুলিশ পরিদর্শক হুমায়ুন কবীরের পরিচিতি যাচাই করেই তাকে ভালুকা মডেল থানায় ওসি হিসেবে দেয়া হয়েছে। তিনি নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতা ছিলেন এমন তথ্য আমার জানা নেই। আপনারা বলেছেন- তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নিবো।

৫ আগস্টের পর ময়মনসিংহের সাবেক ডিআইজিকে জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সাবেক মেয়র ইকরামুল হক টিটুর ভাই ব্যবসায়ী আমিনুল হক শামীম পুলিশ প্রশাসনকে নিয়ন্ত্রণে আনতে লোক মারফত দুই কোটি টাকার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। ডিআইজি ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে ২০২৪ সালের ২৮ ডিসেম্বর দুপুর ১২টার দিকে ‘সমন্বয়ক’ নামধারী কয়েকজন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা ডিআইজি’র কার্যালয়ে গিয়ে তাকে ঘিরে উচ্চস্বরে হুমকি-ধমক, অশালিন ভাষা ব্যবহার এবং তার পদত্যাগের দাবিতে চাপ প্রয়োগ করে। ওই ঘটনায় প্রশাসনিকভাবে এখনো কোনো পদক্ষেপ নেয়নি জেলা পুলিশ। তবে ময়মনসিংহ জেলা আ’লীগের সহ-সভাপতি সিআইপি আমিনুল হক শামীমের দাবি, তিনি গত বছরের নভেম্বরে বিদেশ যান এবং ডিসেম্বরে দেশে ফেরেছেন। তখনও তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা ছিল না। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে ১৫ ডিসেম্বর তার বিরুদ্ধে মামলা হয়। তিনি আরো বলেন, ওই সময় তার পুলিশ ক্লিয়ারেন্স আটকে দিয়েছিলেন সাবেক এ ডিআইজি। নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, ময়মনসিংহ পুলিশ সুপার আখতার উল আলম আমিনুল হক শামীমের বিদেশ গমন নিষিদ্ধ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশসহ তার নেতিবাচক প্রতিবেদন জমা দেন। পাশাপাশি তিনি ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের কাছে শামীমের নামে বিদেশ যাত্রা নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য আনুষ্ঠানিক পত্র প্রেরণ করেন। এ প্রেক্ষিতে, ময়মনসিংহ পুলিশ সুপারের সুপারিশ ও অনুরোধ অনুযায়ী ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ আমিনুল হক শামীমের বিদেশ ভ্রমণ নিষিদ্ধ করেছে বলে অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে। অনুসন্ধানকালে ডিআইজি’র কোন সম্পৃক্ততা খুঁজে পাওয়া যায়নি।

অপরদিকে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় ময়মনসিংহের থানাগুলোয় উল্লেখযোগ্য কোনো হামলা, অগ্নিসংযোগ বা লুটপাটের ঘটনা না ঘটলেও ‘সহিংসতা প্রতিরোধের কৃতিত্বে’ পিপিএম পদক পেয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এমএম মোহাইমেনুর রশিদ। অথচ তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আমিনুল হক শামীমের সুপারিশের ভিত্তিতে ২০২২ সালের ৮ আগস্ট ময়মনসিংহে যোগদান করেন। অভ্যুত্থানের পর তাকে অন্যত্র বদলি করা হলেও অজ্ঞাত কারণে দু’বার বদলি ঠেকিয়ে ফিরে আসেন ময়মনসিংহে। জুলাই আন্দোলনকারী ও রাজনৈতিক দলের নেতারা জানান, এডিশনাল এসপি মোহাইমেনুর রশিদ আওয়ামী লীগের আমলে নিজেকে ‘সাবেক ছাত্রলীগ নেতা’ পরিচয় দিতেন এবং তৎকালিন ডিবি পুলিশের মাধ্যমে বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার ও নানা হয়রানি করেন। শুধু তাই নয়, ২০২৩ সালের ৩১ জুলাই রাতে ময়মনসিংহ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় অভিযান চালিয়ে জামায়াতের প্রভাবশালী ১৯ নেতাকে বিশেষ ক্ষমতা আইনে গ্রেপ্তারে গুরুত্বপুর্ন ভূমিকা রাখেন। পাটগুদাম রেলীর মোড় বাসিন্দা সাবেক ছাত্রদলের নেতা তানভির তাহের সৌরভের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ২৭ অক্টোবর যৌথবাহিনী তাকে আটক করে কোতোয়ালি থানায় পাঠায়। পরে এডিশনাল এসপি মোহাইমেনুর রশিদ’র নির্দেশে কোতোয়ালী থানা থেকে নিয়ে ডিবি অফিসের ওসির টয়লেটে চোখ বেঁধে সম্পূর্ণ উলঙ্গ করে পাশবিক নির্যাতন চালানো হয় এবং তা ভিডিও করে তার নিকট থেকে মোটা অংকের টাকা আদায় করা হয়।

এদিকে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর শফিকুল ইসলাম মিন্টু, জেলা যুবলীগের সদস্য সৈয়দ সাদিকুল মোমেন তানিম কয়েক মাস কারাগারে থেকে সম্প্রতি মুক্তি পান। মুক্তি পেয়ে শফিকুল ইসলাম মিন্টু গত কয়েকদিন আগে নিরাপদে ইমিগ্রেশন শেষ করে দেশত্যাগ করেন। আওয়ামী লীগ নেতা সাইফুল ইসলাম ওরফে পেট্রোল সাইফুল ও সিটি করপোরেশনের সাবেক প্যানেল মেয়র আসিফ হোসেন ডনও জামিনে মুক্তি পেয়ে আত্মগোপনে চলে যান। এ ঘটনায় মোটা অংকের টাকা লেনদেন হয়।

( এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। )

Comments are closed.




© All rights reserved © 2024 websitenews24.com