নিজস্ব সংবাদদাতা : ময়মনসিংসহ সারা দেশেই ভয়াবহ রূপ নিয়েছে চাঁদাবাজি। চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্যের কথা স্বীকার করছে পুলিশও। ভালুকা মডেল থানার ওসি নাজমুল হুদা জানান, চাঁদাবাজির কারণে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে। এ কারণে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের দুর্ভোগ হচ্ছে। এ অবস্থায় ভালুকাতে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে থানা পুলিশ। চাঁদাবাজি বন্ধ করতে চাঁদাবাজদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। দু-তিন দিনের মধ্যে তালিকা ধরে গ্রেপ্তার করা শুরু হবে। চাঁদাবাজি করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলেও জানান ওসি।
গত ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে সরকার পতনের পর মানুষ আশা করেছিল, এবার চাঁদাবাজির অবসান হবে। কিন্তু বাস্তবচিত্র খুবই হতাশাজনক। ভালুকা মেদিলা এলাকার আবু হানিফের চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ। সাবেক এমপি ধনু’র বিশ্বস্ত লোক ছিলেন তিনি। ধনু পালিয়ে গেলেও তার সকল সম্পদ পাহারা এখন আবু হানিফ। থানা থেকে সকল তথ্য নিয়ে গোপনে পাচার করেন আওয়ামী লীগ নেতা কমিটির কাছে। ৫ আগস্টের পর মাস দুয়েক চাঁদাবাজি বন্ধ ছিল। এখন আবার শুরু হয়েছে। প্রতিদিন প্রতিটি শিল্প কারখানার মালিক চাঁদা দিতে হয়। শুধু কারখানার মালিক নয়, অন্যান্য ব্যবসায়ীরাও চাঁদা দিতে হয়। ফুটপাতে দোকান বসানোর জন্য চাঁদা দিতে হয় আবু হানিফকে। পাড়া-মহল্লায় গৃহস্থালি বর্জ্য বহনকারীদেরও চাঁদা দিতে হয়। ভালুকা স্থায়ী দোকান, হাটবাজারেও চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। এরই মধ্যে যৌথ বাহিনী এমন অনেককে আটকও করেছে। ভালুকার বাইরে অন্যান্য গ্রামাঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়েছে চাঁদাবাজি।
নতুন আরেক ধরনের চাঁদাবাজিও চলছে এখন। হত্যাসহ নানা অভিযোগে কয়েক শ মানুষকে আসামি করে মামলা দেওয়ার পর আসামিদের কাছ থেকে চাঁদাবাজি করা হচ্ছে।৫ আগস্টের আগে চাঁদাবাজি করতেন আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা। থেকে জানা যায়, এখন সেই স্থান দখল করেছেন আবু হানিফ ও তার দলবল সাথে অন্য দু-একটি রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা। অর্থাৎ চাঁদাবাজির হাতবদল হয়েছে মাত্র।আর এই চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য নিয়ে সংঘর্ষ ও হতাহতের ঘটনাও ঘটছে। আবার চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করতে গিয়েও হতাহতের ঘটনা ঘটছে।