স্টাফ রিপোর্টার: সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং তাদের পরিবারকে নিয়ে ‘মিথ্যা, অশ্লীল ও মানহানিকর’ বক্তব্য সংবলিত ব্যানার নিয়ে মানববন্ধনের ঘটনায় দায়ের করা পিটিশন মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), ময়মনসিংহ জেলা।
গত ২০ মে ২০২৫ তারিখে পিবিআই’র পুলিশ পরিদর্শক (নিঃ) মো. মোজাম্মেল হক তদন্ত শেষে অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ০১ নং সিআর আমলী আদালত, ময়মনসিংহে প্রতিবেদন জমা দেন।
মামলার বাদী সাবেক ছাত্রদল নেতা মো. রেজাউল করিম রেজা অভিযোগ করেন, ২০১৭ সালের ২২ জুলাই ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আওয়ামী লীগসহ কয়েকটি সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে বিএনপি ও তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং তার পরিবারের বিরুদ্ধে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
অভিযোগে বলা হয়, ওই মানববন্ধনে ভাঙ্গা থানা আওয়ামী লীগের নেতা মো. শহীদুল ইসলামসহ অন্যরা পারস্পরিক যোগসাজশে বেগম খালেদা জিয়া ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ‘মানহানিকর ও কুরুচিপূর্ণ’ বক্তব্য প্রদান করেন।মানববন্ধনে ব্যবহৃত ব্যানার ও বক্তব্যে “আগুন সন্ত্রাস ও পেট্রোল সন্ত্রাস সৃষ্টিকারী বিএনপি”, “এতিমদের টাকা ভক্ষণকারী জামাত-জোট নেত্রী খালেদা জিয়া” এবং “১৫ আগস্ট জন্মদিন পালন করে মিথ্যাচার করেছেন”— এমন বক্তব্য তুলে ধরা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
পরবর্তীতে ২০১৭ সালের ২৩ জুলাই একটি পত্রিকায় “এতিমদের টাকা ভক্ষণকারী জামাত-জোট নেত্রী খালেদা ডেকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে” শিরোনামে ছবি-সংবলিত সংবাদ প্রকাশিত হয়। বাদী ওই সংবাদ সংরক্ষণ করে পরবর্তীতে নেত্রীর মানহানি হয়েছে দাবি করে আদালতে সিআর মামলা দায়ের করেন। মামলাটি ৫০০/৩৪ দণ্ডবিধির ধারায় পিটিশন মামলা নং-৭৫৪/২০২৫ হিসেবে রুজু করা হয়।
মামলার প্রধান আসামি মো. শহীদুল ইসলাম (৫২), পিতা-মৃত আব্দুল মজিদ মোল্লা, গ্রাম-ছোট খারদিয়া, থানা-ভাঙ্গা, জেলা-ফরিদপুর। তিনি দৈনিক প্রলয় পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে কর্মরত বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।আদালতের নির্দেশে মামলার তদন্তভার গ্রহণ করেন পিবিআই’র পুলিশ পরিদর্শক মো. মোজাম্মেল হক। তদন্ত তদারকি করেন পিবিআই’র পুলিশ সুপার মো. রকিবুল আক্তার।
তদন্তকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন, খসড়া মানচিত্র প্রস্তুত এবং মামলার চারজন মনোনীত সাক্ষী ও তিনজন নিরপেক্ষ সাক্ষীর জবানবন্দি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬১ ধারায় রেকর্ড করা হয়।
তদন্তে উঠে আসে, ঘটনার দিন মো. শহীদুল ইসলাম ৭০ থেকে ৮০ জন লোক নিয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে অংশ নেন এবং সেখানে বেগম খালেদা জিয়া ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে বক্তব্য প্রদান করা হয়। পত্রিকায় প্রকাশিত ছবিতেও তাকে স্পষ্টভাবে শনাক্ত করা গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
তদন্তকারী কর্মকর্তা তার প্রতিবেদনে বলেন, দালিলিক ও মৌখিক সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং পারিপার্শ্বিক তথ্য পর্যালোচনায় ২০১৭ সালের ২২ জুলাই জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে ১ নম্বর বিবাদী মো. শহীদুল ইসলামের উপস্থিতি এবং তার মাধ্যমে বেগম খালেদা জিয়া ও তার পরিবারের মানহানি ঘটার অভিযোগ প্রাথমিকভাবে সত্য বলে প্রতীয়মান হয়েছে।এদিকে, গত ১৯ মে ময়মনসিংহের আদালত মো. শহীদুল ইসলামের নামে সমন জারি করেন। নির্ধারিত তারিখের মধ্যে আদালতে হাজির না হলে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হবে বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।
এছাড়া, আওয়ামী লীগ নেতা শহীদুল ইসলামের বিরুদ্ধে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, যশোর, টাঙ্গাইল, ঢাকা ও ময়মনসিংহে একাধিক মামলা রয়েছে বলেও জানা গেছে।
অন্যদিকে, রাজধানীতে ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরের বাসিন্দা আতাউল গণি হত্যা মামলায়ও শহীদুল ইসলামের নাম রয়েছে। ওই মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৩৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলা নম্বর-৩৪/২৫, ধারা-৩০২/৩৪ দণ্ডবিধি। মামলাটি বর্তমানে ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) তদন্ত