বিশেষ প্রতিনিধিঃ নাম তার কাজী মসিউর হোসেন দিপু। আইন পেশার বৈধ সার্টিফিকেট না থাকলেও সবাইকে আইনজীবি হিসেবে পরিচয় দিতে গর্ববোধ করতেন। বঙ্গবন্ধু ল’ কলেজে ভর্তির সুবাদে সখ্যতা গড়ে উঠে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা কর্মীদের সাথে, বনে যান এক এগারো পরবর্তী আওয়ামী সরকারের প্রভাবশালী নেতা। প্রথমে সখ্যতা পরবর্তীতে ঘনিষ্টতা, এই সুযোগে ফ্যাসিষ্ট আওয়ামী লীগের মন্ত্রী এমপিদের ক্ষমাতাকে কাজে লাগিয়ে ভাগিয়ে নেন বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান একুশে পদক-২০২৩। এ নিয়ে দেশের বিশিষ্টজনরা প্রশ্ন তুলেছেন। পদকপ্রাপ্তদের তালিকায় এমন কিছু ব্যক্তির নাম আছে, যাঁদের ঠিক কী কারণে, কী অবদানের জন্য রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে জনগণের ট্যাক্সের টাকা খরচ করে রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ এই সম্মান দেওয়া হয়েছে, তা কেউ বুঝতে পারছেন না ।
চিত্রশিল্প কাজী আনোয়ার হোসেন রয়েছেন এঁদের মধ্যে একজন । গত ৫ জানুয়ারি মাদারীপুর উৎসব-২০২৩ উপলক্ষে চিত্রশিল্প কাজী আনোয়ার হোসেনের পরিবারকে এ পদক তুলে দেন। বিভিন্ন মাধ্যমে জানা যায় কাজী আনোয়ার হোসেন এর ছেলে কাজী মসিউর হোসেন দিপু আওয়ামী লীগ ক্যাডার এর প্রভাব বিস্তার করে উক্ত পদক হাতিয়ে নিয়েছে। ফ্যাসিষ্ট ও খুনি আওয়ামী সরকারের দোসর ও বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ছাত্র হত্যাকারীর পরিকল্পনাকারী, মদদ দাতা ও অর্থ যোগান দাতা ভুয়া উকিল কাজী মসিউর হোসেন দিপু তার নৌকা বাবার একুশে পদক পাওয়ার জন্য ডিও লেটারের মাধ্যমে সুপারিশ করেন মাদারীপুর-২ আসনের সাবেক সাংসদ শাহাহান খান, সাবেক সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদ বাবু, আ,লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আ,ফ,ম বাহাউদ্দিন ও সাবেক রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ ।
ফ্যাসিষ্ট এর দোসর কাজী মসিউর হোসেন দিপু তার ক্ষমতার অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে তৎকালীন অবৈধ সরকারের শীর্ষ কর্মকতাদের কাজে লাগিয়ে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে অর্থ ব্যায় করে ”চিত্রশিল্পী কাজী আনোয়ার হোসেন চিত্রকর্ম প্রদর্শনী (আট এক্সিবিশন) তার পৈত্রিক বাড়ী মারারীপরে । উক্ত চিত্রকর্ম প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে স্বৈরাচার সরকারের স্পিকার ড. শিরিন শারমীন, সাবেক নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাহজাহান সিরাজ, সাবেক আইসিটি মন্ত্রী জোনাইদ আহমদ পলক, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারী উপদেষ্টা দরবেশ সালমান এফ রহমান, আওয়ামী লীগের নেতা নুর ই আলম, মাদারীপুর জেলার ডিসি এসপি, ইউএনও এবং সরকারের উর্ধ্বতন কমাকর্তা কর্মচারীরা রাষ্ট্রীয় খরচে গাড়ীর তৈল পুড়িয়ে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ কাজ বাদ দিয়ে উক্ত চিত্রকর্ম প্রদর্শনী উদ্বোধন করতে যান। স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে কাজী আনোয়ার হোসেন শুধুমাত্র নৌকার চিত্র অংকন ও তার ছেলে কাজী মসিউর রহমান দিপুর আওয়ামী প্রভাব প্রতিপত্তি থাকায় একুশে পদক পেয়েছে বলে আক্ষেপ করে বলেন ।
এ ছাড়াও নৌকা আনোয়ার হোসেন এর নামে মাদারীপুরে মাদারীপুরে একই পন্থায় এবং একই উপায় রাষ্ট্রীয় অর্থে করা হয়েছে সড়কের নামকরণ । এইটা নিয়েও জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের সাথে আলাপচারীতায় উঠে এসেছে কাজী মসিউর হোসেন দিপু দলীয় প্রভাব বিস্তার করে এসব করেছেন। এছাড়াও বৈধ কোন স্থায়ী পেশা না থাকলেও মাদারীপুর ও দেশের বিভিন্ন স্থানে জায়গা জমি, ফ্ল্যাট, প্লট, একাধিক ব্যাংকে ও শেয়ার বাজারে দিপুর বিপুল পরিমাণ অর্থ ডিপোজিট ও বিনিয়োগসহ ঢাকার নিজ বাসায় বিপুল নগদ অর্থ রয়েছে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট সংবাদের সুত্র ধরে ঢাকার সংশ্লিষ্ট কর অঞ্চলের অফিসে খোঁজ নিয়ে তাদের ট্যাক্স রিটার্ন দাখিলের কোন প্রকার তথ্য পাওয়া যায়নি। এতে প্রতীয়মান হয় যে, সে সরকারের রাজস্ব ফাঁকির মাধ্যমে তাদের অবৈধ পন্থায় অর্জিত টাকা দেশের বাইরে পাচার করে দিয়েছে মর্মে জানা যায়।