স্পেনে বন্যা মোকাবিলায় ব্যর্থতার অভিযোগে লাখো মানুষের বিক্ষোভ

স্পেনে বন্যা মোকাবিলায় ব্যর্থতার অভিযোগে লাখো মানুষের বিক্ষোভ

অনলাইন ডেস্ক: ভয়াবহ বন্যা মোকাবিলায় যথাযথ পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থতার অভিযোগে স্পেনের ভ্যালেন্সিয়া শহরে বিক্ষোভ করেছে লক্ষাধিক মানুষ। তাদের অভিযোগ, কর্তৃপক্ষ বন্যার পূর্বাভাস দিতে দেরি করেছিল, যার ফলে ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষতি হয়েছে। খবর বিবিসির।বার্তা সংস্থা এফে সহ স্পেনের বিভিন্ন গণমাধ্যম একটি সরকারি সংস্থার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, শনিবার (৯ নভেম্বর) রাতে ভ্যালেন্সিয়ার রাস্তায় প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। তারা আঞ্চলিক প্রধান কার্লোস মাজোনের পদত্যাগ দাবি করে স্লোগান দিতে থাকেন, ‘আমরা কাদায় মাখা, আর আপনি রক্তে রাঙা’।

গত মাসে ভ্যালেন্সিয়া এবং পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে টানা বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট বন্যায় অন্তত ২০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন ৮০ জন। এই বিপর্যয়ের জন্য স্থানীয় প্রশাসনের অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করে জনগণ রাস্তায় নেমে আসে।

বিক্ষোভকারীরা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বন্যা সতর্কতা জারি করার ক্ষেত্রে অনেক দেরি করার অভিযোগ এনেছে।এসময় কিছু বিক্ষোভকারী সিটি হলের দিকে এগোনোর চেষ্টা করলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে তাদের ঠেকানোর চেষ্টা করে। এতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠে। প্রতিবাদকারীরা ভ্যালেন্সিয়া সিটি হলের সামনে কাদা, চেয়ার ও অন্যান্য বস্তু নিক্ষেপ করতে থাকে।শহরটির মেয়র মারিয়া জোসে কাটালা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাঙা জানালার ছবি ও একটি ভিডিও পোস্ট করেন, যেখানে আগুন লাগানোর চেষ্টার দৃশ্য দেখা যায়। তিনি বলেন, ‘ভাঙচুর কোনো সমাধান নয়’।

ভ্যালেন্সিয়া সিটি কাউন্সিল ‘ভাংচুরের’ নিন্দা করে বলেছে, শহরটিও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বিক্ষোভের অন্যতম আয়োজক আন্না অলিভার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘বন্যা মোকাবিলায় দুর্বল ব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে আমরা ক্ষোভ প্রকাশ করতে রাস্তায় নেমেছি, যা বহু মানুষের জীবন তছনছ করে দিয়েছে।গত সপ্তাহে স্পেনের রাজা ও রানি বন্যায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পাইপোর্টা শহর পরিদর্শনে গিয়ে জনগণের তোপের মুখে পড়েন। তাদের গায়ে কাদা ও অন্যান্য বস্তু নিক্ষেপ করে ক্ষুব্ধ জনতা। একই ঘটনা ঘটে প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের ক্ষেত্রেও। তবে তাকে দ্রুত সেখান থেকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়।

বন্যায় হাজার হাজার মানুষ তাদের বাড়িঘর হারিয়েছে। অনেক এলাকার রাস্তা এখনও কাদা এবং ধ্বংসাবশেষে ঢেকে আছে।বিক্ষোভের মুখে আঞ্চলিক প্রধান কার্লোস মাজোন তার পদক্ষেপের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে বলেছেন, কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে যথাযথ পূর্বাভাস না পাওয়ায় দুর্যোগ মোকাবিলায় তারা প্রস্তুতি নিতে পারেননি।স্পেনের আবহাওয়া সংস্থা গত ২৫ অক্টোবর থেকে এই অঞ্চলের জন্য ঝড়ের সতর্কতা জারি করে, কিন্তু ভ্যালেন্সিয়ান কর্তৃপক্ষ বন্যা শুরু হওয়ার কয়েক ঘন্টা পর্যন্ত মোবাইল ফোনে সতর্কবার্তা জারি করেনি।

জরুরি অবস্থার দায়িত্বে থাকা স্থানীয় একজন কাউন্সিলার স্বীকার করেছেন, তিনি জানতেন না যে মোবাইল ফোনে সতর্কবার্তা পাঠানোর জন্য একটি ব্যবস্থা আছে।স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, বন্যা শুরু হওয়ার পর আঞ্চলিক প্রধান কার্লোস মাজোন এক সাংবাদিকের সাথে দুপুরের খাবার খেতে বাইরে চলে যান। তিনি স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত জরুরি সমন্বয় সভায় পৌঁছাননি। তবে সরকারি সূত্রগুলো এল পেস পত্রিকাকে বলেছেন, এটি ভিত্তিহীন খবর। মাজোনকে ক্রমাগত ঘটনা সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছিল।

( এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। )

Comments are closed.




© All rights reserved © 2024 websitenews24.com