ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কাজের গতি বাড়াতে একে কয়েক ভাগে ভাগ করা যায় কিনা, তা নিয়ে আলোচনা করেছে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার)। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ‘নিকার’-এর প্রথম সভায় এ আলোচনা হয়।
বৈঠক শেষে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ব্রিফিংয়ে প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, বর্তমানে ডিএমপির অধীনে ৫০টি থানা রয়েছে, যা একটি বিশাল কর্মযজ্ঞ। এই কাজকে আরও সহজতর ও কার্যকর করতে ডিএমপিকে ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ বা অন্য কোনও উপায়ে একাধিক ভাগে বিভক্ত করার প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। কাজের গতি বৃদ্ধি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণ করাই এই পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য।
প্রেস সচিব জানান, সভায় প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচনের পরিবেশ সুষ্ঠু রাখতে গুরুত্বারোপ করেন। তিনি নির্বাচনের আগে বিশেষ করে লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারের ওপর কড়া নির্দেশ দিয়ে বলেন, “‘লুট করা অস্ত্র যে করেই হোক ইলেকশনের আগে যত দ্রুত পারা যায় এগুলোকে উদ্ধার করতে হবে।
নিকার সভায় ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান অধিদফতর’ গঠনের ভূতাপেক্ষ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে ইতোমধ্যে এই অধিদফতরটি গঠন করা হয়েছিল, যা আজ আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পেল। জুলাই বিপ্লবের স্মৃতি সংরক্ষণ ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম গতিশীল করতে এই অধিদফতর কাজ করবে।
এছাড়া প্রশাসনিক সংস্কারের অংশ হিসেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা ‘জননিরাপত্তা বিভাগ’ ও ‘সুরক্ষা সেবা বিভাগ’ দুটিকে একত্রীকরণের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়টি পুনর্গঠনের বিষয়টিও আজকের সভায় ভূতাপেক্ষ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ব্রিফিংয়ে প্রেস সচিব আরও জানান, সরকারের প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা আনতে এ ধরনের সংস্কারমুখী আলোচনা ও সিদ্ধান্ত অব্যাহত থাকবে।