সাইফুল ইসলাম, ফরিদপুর : দেশে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে প্রতারণা। নানা ধরনের প্রতারণার ফাঁদ পেতে চারদিকে ওঁৎ পেতে রয়েছে নানা প্রতারক চক্র। ভয়ঙ্কর সব প্রতারণার অভিযোগ থাকলেও নেই প্রতিকার। এমন কোনো খাত নেই যেখানে প্রতারকরা তাদের জাল বিস্তার করেনি। মোবাইল ব্যাংকিং থেকে শুরু করে অনলাইনে পণ্য বিক্রি, চাকরির প্রলোভন এমনকি কথিত তন্ত্রমন্ত্র সাধনার নামে সিদ্ধিলাভ সর্বত্রই প্রতারণা। ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে প্রতারণার মাত্রা দিন দিন বাড়ছে। মামলার পর গ্রেফতার হলেও দ্রুত জামিনে বেরিয়ে এসে আবারও বেপরোয়া হয়ে উঠছে এ চক্রের সদস্যরা। শুধু ফরিদপুর ভাঙ্গায় পাঁচ শতাধিক প্রতারক চক্র সক্রিয় রয়েছে। ২০০৪ সাল থেকে এ পর্যন্ত শুধু র্যাব-পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছে সারাদেশে ১০ হাজারের বেশি প্রতারক। প্রতারক চক্র অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে যে কারো নম্বর ক্লোনিং করতে পারে। ফলে সহজেই সাধারন মানুষ প্রতারিত হচ্ছেন।
অপরাধ বিজ্ঞানীরা বলছেন, প্রতারণা কমাতে আইনি পদক্ষেপের পাশাপাশি বাড়াতে হবে সামাজিক সচেতনতাও। গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, যেসব মানুষ অনলাইন প্রতারণার শিকার হন, তাদের ৭০ ভাগই মামলা করতে চান না। ফলে ভয়ংকর সব প্রতারণার অভিযোগ থাকলেও নেই প্রতিকার। আবার মামলার পর গ্রেপ্তার হলেও দ্রুত জামিনে বেরিয়ে এসে আবারও বেপরোয়া হয়ে উঠছে চক্রের সদস্যরা। সিআইডি ও ডিবির কর্মকর্তারা বলছেন, সাধারণত সহজ-সরল মানুষ এবং শিক্ষিত বেকার যুবকই তাদের টার্গেট। সুযোগ বুঝেই নানা ছলচাতুরী ও প্রলোভনে তারা প্রতারণা করছে। এসব প্রতারণার মধ্যে কম খরচে বিদেশ পাঠানো, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে উচ্চ বেতনে চাকরি, বিকাশ কিংবা মোবাইল ফোনে বড় পুরস্কার জেতার অফার, জাদুর বাক্সে টাকাকে ডলারে রূপান্তর, কম দামে ভালো জিনিস বিক্রির নামে পুরোনো কাপড় গছিয়ে দেয়া, অনলাইনে বিনিয়োগ করে দ্রুত অধিক মুনাফা অর্জন ও ভাগ্য পরিবর্তন ইত্যাদি বিচিত্র ও অভিনব কৌশলে প্রতারণা করে এরা। ভাঙ্গার প্রতারক কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন এবং চিত্রনায়ক ইমনের কাছ থেকে প্রতারণা করে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে শহীদুল ইসলাম নামে একজনকে গ্রেফতার করেছে ডিবি।
২০২৩ সালে প্রায় চার মাস ফরিদপুর কারাগারে থাকার পর উচ্চ আদালত থেকে জামিনে এসেছে। শহিদুলের সাথে রয়েছে ১৫ থেকে ২০ জন বিকাশ প্রতারক। তার ফোন রিসিভ করলেই এখন থেকে টাকা চলে যায় ডিবি জানায়, সম্প্রতি শাওনের মোবাইলে প্রতারক শহীদুল ইসলাম নিজেকে ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া পরিচয় দিয়ে জানায়, নুহাশপল্লীর উন্নয়ন বাবদ অস্ট্রেলিয়া থেকে বড় অংকের একটি ফান্ড এসেছে। এ ফান্ড বর্তমানে অর্থ মন্ত্রণালয়ে জমা আছে। তখন অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক উপ-সচিবের মোবাইল নম্বর দিয়ে শাওনকে যোগাযোগ করতে বলেন ওই প্রতারক। শাওন ওই মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করলে অন্য প্রান্ত থেকে রবিউল নিজেকে উপ-সচিব পরিচয় দিয়ে ফান্ড ট্রান্সফারের জন্য সরকারি ফি বাবদ ৩১ হাজার ৮৫০ টাকা বিকাশে পাঠাতে বলেন।
শাওনও বিশ্বাস করে টাকা পাঠান। এরপর থেকে নম্বরটি বন্ধ। জহির উদ্দিন নামে একজন ব্যবসায়ী জানান, গত ২২ আগস্ট ডিএসওর নম্বর থেকে তার কাছে ফোন করে বলে যে, বিকাশ হেড অফিস থেকে তাকে কল করা হবে সে যেন তাদের চাওয়া তথ্য দিয়ে দেয়। কিছুক্ষণ পর এক ব্যক্তি তাকে ফোন দিয়ে বলেন, তিনি বিকাশের হেড অফিস থেকে বলছেন। ওই ব্যক্তি ভিকটিমের বিকাশ এজেন্ট একাউন্টটি আপডেটের কথা বলে কৌশলে ভিকটিমের কাছ থেকে ওটিপি কোড সংগ্রহ করে। পরে ভিকটিমের বিকাশ এজেন্ট নম্বর থেকে ১ লাখ ৭০০ টাকা প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেয় প্রতারক চক্রটি।