স্টাফদের কর্মবিরতিতে ট্রেন চলাচল বন্ধ সারাদেশে

স্টাফদের কর্মবিরতিতে ট্রেন চলাচল বন্ধ সারাদেশে

নিজস্ব  প্রতিবেদক: মূল বেতনের সঙ্গে রানিং অ্যালাউন্স যোগ করে পেনশন এবং আনুতোষিক সুবিধা দেওয়ার দাবিতে কর্মবিরতি শুরু করেছেন রেলওয়ের রানিং স্টাফ, শ্রমিক ও কর্মচারীরা। এতে সারাদেশে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের আহ্বান উপক্ষো করে মঙ্গলবার রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে তাদের এই কর্মসূচি শুরু হয়। ফলে ১২টার পর শিডিউলে থাকা কোনো ট্রেন ছেড়ে যায়নি। তবে যেগুলো রাত ১২টার আগের শিডিউলে ছিল শুধু সেগুলো চলছে।বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ রেলওয়ে রানিং স্টাফ ও শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের ঢাকা মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক সাঈদুর রহমান। তিনি বলেন, রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে আমরা আমাদের কর্মবিরতি শুরু করেছি। রাত ১২টার পর শিডিউল থাকা কোনো ট্রেন আর চলছে না।

সারাদেশে প্রায় ১৭০০ রানিং স্টাফ কর্মচারী রয়েছে। এই রানিং স্টাফরা হলেন গার্ড, ট্রেনচালক (লোকোমাস্টার), সহকারী চালক ও টিকিট পরিদর্শক (টিটিই)। দৈনিক কর্মঘণ্টা ৮ ঘণ্টা হলেও রানিং স্টাফদের গড়ে ১৫ ঘণ্টার বেশি কাজ করতে হয়। এজন্য দূরত্ব অনুযায়ী তাদের বিশেষ আর্থিক সুবিধা দেয়া হয়, যাকে বলা হয় মাইলেজ। এটা তাদের বেতনের অংশ। প্রতি ১০০ কিলোমিটার ট্রেন পরিচালনা করলে তারা মূল বেতনের একদিনের বেসিকের সমপরিমাণ টাকা অতিরিক্ত পেতেন। এছাড়া মূল বেতনের হিসাবে অবসরকালীন ভাতা যা হয়, তার সঙ্গে অতিরিক্ত আরও ৭৫ শতাংশ টাকা বেশি দিয়ে তাদের পেনশন দেয়া হতো।

২০২২ সালের জানুয়ারিতে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে রানিং স্টাফদের সেই সুবিধা বাতিল করা হয়। এরপর থেকে বাংলাদেশ রেলওয়ে রানিং স্টাফ ঐক্য পরিষদে ধারাবাহিকভাবে আন্দোলন করে আসছে।

সোমবার বিকেলে রেল ভবনে রেল কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর বাংলাদেশ রেলওয়ে রানিং স্টাফ ও শ্রমিক কর্মচারী সমিতির ঢাকা বিভাগীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাঈদুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, আমরা আজকে (সোমবার) বিকেলে রেল ভবনে রেল কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করলাম। এই বৈঠকে আমাদের মাইলেজ, রানিং অ্যালাউন্সের কোনো দাবি পূরণের আশ্বাস মেলেনি। তাই রাত ১২টা থেকে আমরা কর্মবিরতিতে যাচ্ছি। রাত থেকে সারা দেশে ট্রেন চলাচল বন্ধ।

তিনি আরও বলেন, আমরা এর আগে তিনবার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম যে আমরা কর্মবিরতিতে যাব। কিন্তু রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বারবার আমাদের আশ্বাস দিয়েছিল যে আমাদের দাবি তারা বিবেচনা করছেন। এবার আমরা আর পেরে উঠলাম না। তাই কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এটা কোনো দলীয় অ্যাজেন্ডা নয়। এটি সম্পূর্ণভাবে রেলশ্রমিকদের সুরক্ষার আন্দোলন।

এদিকে ট্রেন চালানো বন্ধের ঘোষণা প্রত্যাহারে রানিং স্টাফদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়। সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সংবাদ মাধ্যমে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা রেজাউল করিম সিদ্দিকীর পাঠানো গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ রেলওয়ের রানিং স্টাফরাদের কর্মবিরতি পালনের ঘোষণায় সারাদেশে রেল চলাচলে অচলাবস্থা ও চরম যাত্রী ভোগান্তির আশংকা তৈরি হয়েছে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ রেলওয়ে ও রেলপথ মন্ত্রণালয় তাদের দাবি-দাওয়া/চাহিদা পূরণে যথেষ্ট আন্তরিক ও সর্বোচ্চ সচেষ্ট। ইতোমধ্যে রেলপথ মন্ত্রণালয় থেকে রানিং স্টাফদের দাবি-দাওয়াগুলো অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে পত্র যোগাযোগের পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক আলোচনাও অব্যাহত আছে।। তবে এই আহ্বানে কর্ণপাত করেনি রেলওয়ে রানিং স্টাফ ও শ্রমিক কর্মচারী সমিতি।

( এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। )

Comments are closed.




© All rights reserved © 2024 websitenews24.com