নিজস্ব প্রতিবেদক: বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক ও সহ সমন্বয়ক পরিচয়ে একাধিক চাঁদাবাজির অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে ময়মনসিংহ নগরী ও ১৪ টি উপজেলাতে । এতে সমন্বয়ক পরিচয়ে নগরীর ক্লিনিক ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন মিল ফ্যাক্টরি ও কারখানায় চাঁদাবাজি, ভূমি দখল বেদখল, ব্যবসার নামে নানা চাপ প্রয়োগে নিরীহ মানুষের ব্যবসা হাতিয়ে নেওয়ারও অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু ভূক্তভোগী কলকারখানা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে কোন ধরণের তথ্য বের হচ্ছে না। সম্ভবত ব্যবসার খাতিরে কেউ মুখ খুলছেন না। আবার কেউ মুখ বুঝে সহ্য করছেন। শুধু কি সমন্বয়ক! দলীয় পরিচয়েও বাড়ছে নানা ঘটনা। এসব নেতা কর্মীদের আলোচিত উক্তি, বহু দিন পরে খালি মাঠ পেয়েছি ।

এসব ঘটনার আড়ালেও ময়মনসিংহ রাস্তাঘাটে বাড়ছে ছিনতাই, ডাকাতি, ধর্ষণ, মধ্যরাতে খামারে হামলা আর হুমকির মতো নানা ঘটনা। স্থানীয় সূত্র জানায়, পুরো ময়মনসিংহে কথিত সমন্বয়কদের উৎপাতে সাধারণ মানুষেরাও অতিষ্ঠ। কেননা, গত কয়েক সপ্তাহে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নামে ময়মনসিংহে বিভিন্ন কল-কারখানা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে হানা দিয়ে উঠতি বয়সি কিছু তরুণ ছাত্র সমন্বয়ক ট্যাগ লাগিয়ে লাখ লাখ টাকার চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটিয়েছেন। কিন্তু উল্টো হয়রানি বা হুমকিতে শঙ্কিত হয়ে কেউ সরাসরি মামলা বা অভিযোগ না করলেও গণমাধ্যকর্মীদের কাছে সুস্পষ্ট কিছু তথ্য আসছে। ময়মনসিংহের সমাজকর্মী মোহাম্মদ আজিজ বলেন, ‘আমরা এক আজব শহরে বসবাস করি।

এখানে সিএনজি স্টেশন থেকে বড় বড় মিল কারখানা নদীতেও চলে চাঁদাবাজি। আগে রাজনৈতিক নেতারা চাঁদাবাজি করতো এখন ভুয়া ছাত্র সমন্বয়ক পরিচয়ে করছে। রোহান,সিয়ামসহ ২২ জনের একটি টিম মাঠে চাদাঁবাজি করছে। এ প্রসঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ময়মনসিংহের সমন্বয়ক মো. হাসান বলেন, নগরীতে থেকে এ রকম অনেক অভিযোগ আসছে। সমন্বয়ক পরিচয়ে বিভিন্ন ঝামেলা তৈরি করতেছে। অন্যায়, চাঁদাবাজ এ গুলো যেই করুক না কেন, প্রশাসন যাতে এগুলো শক্তভাবে দমন করে। সমন্বয়ক নাম ভাঙিয়ে করুক কিংবা সমন্বয়ক চাঁদাবাজকেও কোন সুযোগ দেওয়া যাবে না।তারা আওয়ামী লীগের দোসর বা নেতাের গ্রেফতার করলে তারা ছাড়িয়ে নিতে থানা পুলিশকে চাপ প্রয়োগ করে। একই ইস্যুতে ময়মনসিংহের প্রশাসনের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘এখন প্রায় প্রতিদিন দলে দলে দর্শনার্থী আসছেন। ইউএনও স্যারকে প্রতিদিন অর্ধ শতাধিকের মতো দর্শনার্থীর সঙ্গে কথা বলতে হচ্ছে। এদের বেশির ভাগ পরিচয় দেন ছাত্র-সমন্বয়ক। এতে প্রশাসনও বিরক্ত আর বিব্রত।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ৫ আগস্টের পর থেকে নিজেের সমন্বয়ক দাবি করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন সিয়াম । এ সময় নগরীর সমন্বয়কদের পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তোলেন। সেসব ছবি দেখিয়ে নিজেকে সমন্বয়ক দাবি করে বিভিন্ন জায়গায় চাঁদাবাজি করতে থাকেন। বিষয়টি বুঝতে পেরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা-কর্মীসহ সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাকে একাধিকবার সতর্ক করে। তারপরও নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন সিয়াম ও রোহান ।
এ নিয়ে বৃহস্পতিবার তাকে শিক্ষার্থীরা সতর্ক করলে তাদের সঙ্গে বিতর্কে জড়ান। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক পরিচয় দিয়ে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের চাঁদাবাজি ও দখলবাজির অভিযোগ উঠেছে। গড়ে ওঠা এ সিন্ডিকেটের কয়েকজন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কও। এই সমন্বয়কদের কাছের হওয়ায় এসব ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা দেদারছে অপকর্ম করে বেড়াচ্ছেন। তারা সমন্বয়ক পরিচয় ব্যবহার করে ভাড়ায় বিভিন্ন জায়গায় বিচার-সালিশের নামে চাঁদাবাজি, পুলিশ কর্মকর্তাকে মামলা থেকে বাঁচানো, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ও ব্যবসায়ীদের থেকে বাজার মনিটরিংয়ের নামে চাঁদাবাজি করে যাচ্ছেন। এছাড়া জমি ফ্ল্যাটসহ বিভিন্ন দোকান দখল করে দিয়ে লাখ লাখ টাকার চাঁদাবাজি করছে গড়ে ওঠা এই নব্য সিন্ডিকেট।
ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সমন্বয়ক পরিচয়ে কোন চাঁদাবাজি করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরদিকে, ময়মনসিংহ মূল সমন্বয়ক সূত্র জানিয়েছে, ময়মনসিংহ নগরী বা উপজেলাগুলো তাঁদের কোনো কমিটি নেই। যারা সংগঠনের নাম ব্যবহার করে অপকর্ম করবে, তাদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।