বোল পাল্টে দিপুর এখন নতুন কৌশলে প্রতারনা শুরু

বোল পাল্টে দিপুর এখন নতুন কৌশলে প্রতারনা শুরু

বিশেষ প্রতিনিধি : কাজী মশিউর হোসেন দিপু, মাদারীপুর জেলার সদর উপজেলার কাজী বাড়ির মৃত কাজী আনোয়ার হোসেনের ছেলে। বর্তমানে পুরান ঢাকার টিকাটুলীর বাসিন্দা। ইতিপূর্বে পুলিশের হাতে একাধিকবার আটক হয়েছিলো জাল দলিল, জাল নথি পত্র তৈরি, ব্ল্যাকমেইলিং, প্রতারনা ও চাঁদাবাজির অভিযোগে। তার এ প্রতারণার পার্টনার হিসেবে তাকে সহযোগীতা করে তারই স্ত্রী শারমিন আক্তার। আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের নেতা আমলাদের হাত করে কোটি কোটি টাকা কামিয়ে এখন বোল পাল্টিয়ে নিজেকে একজন বিএনপি পন্থী দাবী করছে কাজী মশিউর হোসেন দিপু। জানা যায়, বিগত আওয়ামীলীগ ফ্যাসিস্ট সরকারের সাবেক বাণিজ্য উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, সাবেক মন্ত্রী শাহাজাহান খান, আ.ফ.ম বাহা উদ্দিন নাছিম ও সাবেক দুর্নীতি দমন কমিশন এর চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হকসহ কেন্দ্রীয় হেভিয়েট নেতাদের ছত্র ছায়ায় থেকে সে একের পর এক প্রতারনার নতুন নতুন কৌশল অবলম্বন করে বহু ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠানের সাথে প্রতারনা করে প্রচুর অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে কাজী মশিউর হোসেন দিপু। তৎকালীন সরকারের উচ্চ পদস্থ মন্ত্রী ও নেতাদের সাথে তার গভীর সখ্যতা থাকায় সে অপরাধ করতে কোন প্রকার দ্বিধাবোধ করতো না। এমনকি পুলিশ প্রশাসনও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গ্রহন করতে অপারগতা প্রকাশ করতো। সে ছিলো দুরন্তর ও খুবই চালাক একজন সুকৌশলী প্রতারক। তার প্রতারনার বিষয়টি সাধারণ দৃষ্টিতে অনুধাবন করা খুবই দুরহ ব্যাপার। বিগত ২০১৫ সালে দিপুর পিতা কাজী আনোয়ার হোসেনকে বিভিন্ন ছলে বলে কৌশলে বঙ্গবন্ধু ও নৌকা প্রেমিক হিসেবে উপস্থাপন করে আওয়ামীলীগের সাথে সুসম্পর্কের খাতিরে নৌকার চিত্র অঙ্কনের জন্য একুশে পদক নেন। মাদারীপুর এলাকায় খবর নিয়ে জানা যায়, তৎকালীন সময়ে মৃত কাজী আনোয়ার হোসেন এর অঙ্কিত নৌকার চিত্র প্রদর্শনীতে আওয়ামী ফ্যাসিস্ট এর দোসর সাবেক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, সাবেক মন্ত্রী শাহজাহান খান, সাবেক এমপি ফারুক খান, হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক সহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। কাজী আনোয়ার হোসেনের একুশে পদককে কাজে লাগিয়ে কাজী মশিউর হোসেন দিপু সকলের কাছে এবং বিভিন্ন অফিস আদালতে নিজেকে একুশে পদকদারী নৌকা আনোয়ারের সন্তান হিসেবে পরিচয় দিয়ে নিজের অবৈধ স্বার্থ হাসিল করে নিতো। এমনকি নিজের পিতার একুশে পদককে ব্যবহার করে ও আওয়ামী সরকারের সাবেক মন্ত্রীদের বিশেষ সুপারিশে মাদারীপুর জেলার রাস্তি ইউনিয়নের একটি রাস্তা তার পিতা মৃত কাজী আনোয়ার হোসেনের নামে নামকরণ করে নেয়। একই ভাবে তার কুটকৌশলকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন জাল দলিল সৃজন করে পাগাড় হাউজিং সোসাইটির মালিক কাজী আবদুল হালিম এর স্বাক্ষর জাল করে কয়েকটি ভুয়া আন রেজিষ্ট্রার্ড দলিল দ্বারা গাজীপুর জেলার টঙ্গী থানার পাগাড় মৌজার ৫৮.৩৬ একর, মরকুন মৌজায় ৯.০৩ একর ও নারায়নগঞ্জ জেলার রুপগঞ্জ থানার গৌতিয়াব মৌজায় ৬.৭৯ একর, ঢাকা জেলার ভাটারা থানার অর্ন্তগত ভাটারা মৌজায় ২০ একর ও রাজারবাগ মৌজা ২১৩ শতাংশ জমি আত্মসাৎ করে নেয়। পরবর্তীতে কাজী আবদুল হালিম পাগাড় হাউজিং সোসাইটির অবিক্রিত ষোল আনা সম্পত্তির মালিকানা কাজী মশিউর হোসেন দিপু ও তার স্ত্রী শারমিন আক্তার জালিয়াতির মাধ্যমে পাগাড়, মরকুন, গোতিয়াব, ভাটারা ও রাজারবাগ মৌজার সম্পত্তি পুনরায় বিভিন্ন ব্যক্তি নিকট বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। বিশেষ সুত্রে আরো জানা যায়, পাগাড় ও গৌতিয়াব মৌজার কতক অংশ ভূমি প্রতারনার মাধ্যমে বিক্রি করে ৬ কোটি ৬৩ লাখ ৯৬ হাজার টাকা ও ২ কোটি ৫৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ করে, যাহার মামলা এখনো চলমান। ঢাকার ভাটারা এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রুপচান সরকার নামে একজন ব্যক্তির সাথে প্রতারনা করে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করে তার সম্পত্তি আত্নসাত করে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেয় এই দিপু দাম্পত্তি। কাজী মশিউর হোসেন দিপু একটি কোম্পানীর সাথে প্রতারনা করে তাদের গাড়ি অবৈধ ভাবে জোড় পূর্বক আটকিয়ে রাখলে পরে তা ঢাকার নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের পূর্বক উদ্ধার করে নিয়ে যান। আরো জানা যায়, বর্তমানে ঢাকার টিকাটুলি, ওয়ারীতে একটি ফ্ল্যাট অবৈধ ভাবে জোর পূর্বক দখলে নিয়ে তাতে বসবাস করছে দিপু। মাদারীপুর প্রতিনিধি জানান, উক্ত কাজী মশিউর হোসেন ও শারমিন আক্তারের নিজস্ব কোন পেশা নেই। তাদের মূল পেশা হলো জাল জালিয়াতির মাধ্যমে দলিল পত্রাদি সৃজন করে অন্যের জমি দখল করা এবং কেউ দাবি দাওয়া বা প্রতিবাদ করিলে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া সহ বিভিন্ন উপায়ে ব্ল্যাক মেইলিং করে প্রতারনার মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেওয়া। তাদের এসব প্রতারনার কাজে সহযোগীতা করছে কিছু অপেশাদার সাংবাদিক, দুর্নীতিবাজ আইনজীবিসহ চাঁদাবাজ প্রকৃতির প্রায় ২০-২৫ জনের একটি সংঘবব্ধ দল। বর্তমানে লোক মুখে কথিত আছে, বিগত ৫ই আগস্ট আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর কাজী মশিউর হোসেন দিপু বোল পাল্টিয়ে এখন নিজেকে একজন বিএনপি পন্থী ও নতুন প্রজন্মের যোদ্ধা হিসেবে পরিচয় দিয়ে আদালতসহ সরকারী বিভিন্ন দপ্তরে সুযোগ সুবিধা গ্রহন করছে। বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তার কুকর্মের সহযোগী অপেশাদার সাংবাদিককে ব্যবহার করে মিথ্যা বানোয়াট সংবাদ প্রকাশ করে তাদের বিরুদ্ধে আওয়ামী ট্যাগ লাগিয়ে নানা ভাবে হয়রানি করে ব্ল্যাকমেইলিং এর মাধ্যমে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। মাদারীপুর সদরের একজন বাসিন্দা জানান, দীপু ও তার স্ত্রী শারমিন কয়েক বছরে আমাদের এলকায় প্রায় ৭০/৮০ বিঘার অধিক জমি কিনেছেন। ঢাকায় তাদের অনেক ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন ব্যাংকে ও শেয়ার বাজারে তাদের বিপুল পরিমাণ অর্থ ডিপোজিট ও বিনিয়োগসহ ঢাকার নিজ বাসায় বিপুল নগদ অর্থ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সংবাদের সুত্র ধরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কাজী মশিউর হোসেন দিপু ও মিসেস শারমিন আক্তার অবৈধ পন্থায় অর্জিত টাকা দিয়ে তারা নরসিংদী জেলায় কয়েকশত বিঘা জমি ক্রয় করেছেন। এমনকি ঢাকার সংশ্লিষ্ট কর অঞ্চলের অফিসে খোঁজ নিয়ে তাদের ট্যাক্স রিটার্ন দাখিলের কোন প্রকার তথ্য পাওয়া যায়নি। এতে প্রতীয়মান হয় যে, তারা ট্যাক্স ফাাঁকির মাধ্যমে তাদের অবৈধ পন্থায় অর্জিত টাকা দেশের বাইরে পাচার করে দিয়েছে। বিভিন্ন সুত্রে জানা যায়, তাদের বিরুদ্ধে ঢাকা, গাজীপুর , নরসিংদী, নারায়নগঞ্জ ও মাদারীপুর জেলার আদালতে একাধিক দেওয়ানী ও ফৌজদারী মামলা চলমান রয়েছে। এই ফ্যাসিবাদীর দোসর দিপু আগেও প্রতারনার মাধ্যমে জাল জালিয়াতি করে শত শত কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে এবং এখন বোল পাল্টিয়ে চলমান রেখেছে তার প্রতারণার ফাঁদ। নোমান গ্রুপের চেয়ারম্যানের পক্ষে মুরাদুল ইসলাম জানান, দিপু একজন প্রতারক। তার বিরুদ্ধে প্রতারণা মামলা হয়েছে। তিনি নতুন কৌশলে প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছে। তার বিচার হওয়া উচিত।

( এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। )

Comments are closed.




© All rights reserved © 2024 websitenews24.com