আন্তর্জাতিক ডেস্ক, নেত্রকোণার আলো ডটকম:
দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বিমানবাহিনী। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) জেজিন শহরের মাহমুদিহ, কাসর আল-আরুশ ও বিরকেট জাব্বুর এলাকায় এই হামলা চালানো হয়। ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর দাবি, দুই ঘণ্টাব্যাপী এই অভিযানে কয়েক’শ রকেট-লাঞ্চারসহ অন্যান্য অবকাঠামো ধ্বংস করা হয়েছে। তবে হতাহতের সংখ্যা এখনও নিশ্চিত করা যায়নি।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্ট এক সংবাদ সম্মেলনে হিজবুল্লাহকে সতর্ক করে বলেন, “তাদের চড়া মূল্য দিতে হবে। ইসরায়েলের সামরিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে এবং হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
হিজবুল্লাহর নেতা হাসান নাসরুল্লাহ পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “গাজা যুদ্ধ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।” তিনি আরও বলেন, “ইসরায়েল সীমা লঙ্ঘন করেছে এবং তাদের এর ফল ভোগ করতে হবে।”
মঙ্গলবার ও বুধবার লেবানন ও সিরিয়ায় হিজবুল্লাহর সদস্যদের ব্যবহৃত তারবিহীন যোগাযোগ যন্ত্রে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এতে অন্তত ৩৭ জন নিহত ও প্রায় তিন হাজার মানুষ আহত হয়েছে। লেবাননের সরকার ও হিজবুল্লাহ অভিযোগ করেছে, ইসরায়েল এই বিস্ফোরণের পেছনে দায়ী। তবে ইসরায়েল এ বিষয়ে এখনও কোনো মন্তব্য করেনি।
যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি পশ্চিমা মিত্র ইসরায়েলকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন এবং হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র কারিন জ্যঁ-পিয়েরে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতির জন্য আলোচনার তাগিদ দিয়েছেন। এছাড়া যুক্তরাজ্যও ইসরায়েলকে উত্তেজনা বাড়ানোর মতো পদক্ষেপ না নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
অঞ্চলের সাম্প্রতিক উত্তেজনার কারণে সীমান্তবর্তী ইসরায়েলি অঞ্চল থেকে সাধারণ জনগণকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছে দেশটির সরকার। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সর্বাত্মক যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।