নিজস্ব প্রতিবেদক, নেত্রকোণার আলো ডটকম:
নেত্রকোণার বারহাট্টা পল্লী বিদ্যুতের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) মনির হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে আদালতে সোপর্দ করলে বিচারক তাকে তিন দিনের পুলিশী হেফাজতে (রিমান্ড) পাঠান।
তার বিরুদ্ধে ঢাকার থানায় দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তারের জন্যে গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা থেকে পুলিশের একটি টিম নেত্রকোণায় আসার পর রাত ১০টার দিকে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তাকে গ্রেপ্তার করে।
আজ শুক্রবার সকালে ঢাকা খিলক্ষেত থানা-পুলিশের দলটি তাকে ঢাকায় নিয়ে যায় বলে জানান, নেত্রকোণা জেলা পুলিশের মুখপাত্র,অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান ।তিনি বলেন, মনির হোসেনকে নেত্রকোণা শহর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বিদ্যুৎ খাতকে অস্থিতিশীল করার অভিযোগে ১৭ অক্টোবর রাজধানীর খিলক্ষেত থানায় পৃথক দুটি মামলা করেন বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের খিলক্ষেত থানার পরিচালক, প্রশাসন (আইন শাখার) আরশাদ হোসেন।এর মধ্যেেএকটি রাষ্ট্রদ্রোহ ও অন্যটি সাইবার নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের হয়।
মামলা দুইটিতে বারহাট্টা পল্লী বিদ্যুতের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) মনির হোসেনসহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির (পবিস) ছয় কর্মকর্তার তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
শুক্রবার (১৮ অক্টোবর) শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ফারজানা শাকিলা সুমু চৌধুরী তাদের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দেন।
রিমান্ডে যাওয়া আসামিদের মধ্যে মনির হোসেন ছাড়া মুন্সীগঞ্জের পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সহকারী জেনারেল ম্যানেজার রাজন কুমার দাস, ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার আসাদুজ্জামান ভূঁইয়া, কুমিল্লার ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার দীপক কুমার সিংহ, মাগুরার শ্রীপুর জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার রাহাত, ও সিরাজগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর বেলাল হোসেন রয়েছেন। তাদের মধ্যে বেলাল হোসেন এক মামলার আসামি। অপর পাঁচজন আরেক মামলার আসামি।
এদিন আসামিদের আদালতে হাজির করে প্রত্যেকের ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন খিলক্ষেত থানার ইন্সপেক্টর আশিকুর রহমান দেওয়ান। আসামিদের পক্ষে আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ এর বিরোধিতা করে। শুনানি শেষে আদালত তাদের রিমান্ডের আদেশ দেন।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, গত ২৮ জানুয়ারি থেকে বিভিন্ন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কতিপয় বিপথগামী কর্মকর্তা/ কর্মচারী একত্রিত হয়ে কেন্দ্রীয় কমিটি পরিচয়ে পরস্পর যোগসাজশে জরুরি সেবা বিদ্যুৎ খাতকে অস্থিতিশীল করার জন্য দেশীয় ও আন্তর্জাতিক চক্রের সাথে জড়িত হয়ে এবং বিগত সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী, এমপি ও প্রভাবশালীদের মদদে নানা অযৌক্তিক দাবি আদায়ের জন্য ষড়যন্ত্র করে পল্লী বিদ্যুতায়ন কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করছে। বিভিন্ন ধরনের ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম কাজে লিপ্ত আছেন তারা। তাদের এ ধরনের কার্যকলাপ গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে চরমভাবে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টার শামিল। তাদের এসব কর্মকাণ্ড বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন, বোর্ডের কর্মকর্তাদের সম্মানহানি এবং বিদ্যুৎ ব্যবস্থা অচল করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিরুদ্ধে জনমনে ঘৃণা ও বিদ্বেষ সৃষ্টির মাধ্যমে সরকারকে চরমভাবে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলছে। তা দেশদ্রোহিতার শামিল।
এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল নয়টার দিকে মনির হোসেনকে সেনাবাহিনী আটক করে বারহাট্রা থানায় নিয়ে যায়।
বারহাট্রা থানার ওসি কামরুল হাসান পরে জানিয়েছিলেন,থানা থেকে কিছু সময় পর মনির হোসেনকে ছেড়ে দেয়া হয়েছিল।
গতকাল বৃহস্পতিবার নেত্রকোণায় নানা দাবি আদায়ে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ সাড়ে ৯ ঘন্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রেখে কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি পালন করেন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির (পবিস) কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।এতে করে নেত্রকোণা পল্লীবিদ্যূৎ সমিকতির আওতায়থাকা জেলার দশ উপজেলা ও পাশের সুনামগঞ্জ জেলার ধর্মপাশা ও মধ্যনগর
উপজেলাসহ ১২টি উপজেলার ৬ লাখ ৩০ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় ভোগান্তি পোহাতে হয়। রাতে পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ জানিয়েছিলেন,, জেলা প্রশাসক বনানী বিশ্বাস , নেত্রকোণায় দায়িত্বপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাসহ তিনি আন্দোলনকারীদের সাথে বৈঠকে বসেন। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ওই বৈঠকে প্রশাসনের সাথে শান্তিপূর্ণ আলোচনা শেষে সন্ধ্যা ৭টার দিকে আন্দোলনকারীরা বিদ্যূৎ সরবরাহ চালু করেন।
নেত্রকোণা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এজিএম আবু সাইদ বলেন, অভিন্ন চাকরি বিধি ও অনিয়মিত কর্মকর্তা- কর্মচারীদের নিয়মিত করার দাবিতে গত ১০ মাস ধরে আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করে আসছি। যৌক্তিক আন্দোলনের কারণে কয়েকদিন আগে আমদের ২০ জন কর্মকর্তাকে বিনা নোটিশে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একজন কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অব্যাহতি দেওয়া কর্মকর্তাদের স্বপদে বহাল, গ্রেপ্তার কর্মকর্তার মুক্তি দেওয়াসহ অভিন্ন চাকরি বিধি ও অনিয়মিত কর্মকর্তা কর্মচারীদের নিয়মিত করার দাবিতে কমপ্লিট শাটডউন কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। বারহাট্টা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম মাহফুজুর রহমান বলেন, আরইবি ও পবিস একত্র করার দাবি করা হয়েছিল সেটা গ্রহণ করা হয়নি। উল্টো আমাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে সহিংস আন্দোলনের রুপ দিতে পায়তারা করছে আরইবি। গত সরকার ছাত্র আন্দোলনে যেভাবে দমন পীড়ন করেছিল, আরইবি এখন আমাদের সঙ্গে সেটাই করছে। আমাদের ২০ জন কর্মকর্তাকে বিনা নোটিশে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে। একজন কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অব্যাহতি দেওয়া কর্মকর্তাদের চাকরিতে পূনর্বহাল, মামলা প্রত্যাহার সহ সকল দাবি মেনে নিতে হবে।
নেত্রকোণা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এজিএম তাপস দেবনাথ বলেন, “যেসব কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুত করাসহ মামলা দেওয়া হয়েছে, তাঁদের দ্রুত চাকরিতে পুনর্বহাল না করা পর্যন্ত আমাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চলবে। তিনি গ্রেপ্তার হওয়া মনির হোসেনের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান।”
নেত্রকোণা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাসুম আহমেদ বলেন,“ নেত্রকোণায় পল্লী বিদ্যুৎ সরবরাহ এখন স্বাভাবিক রয়েছে।’