শাহ আলম, নিজস্ব প্রতিবেদক কুড়িগ্রাম : ভুরুঙ্গামারীতে জাতীয় শ্রমিক লীগের নেতা নজরুল ইসলামকে থানা পুলিশের ঘনিষ্ঠ সহযোগী বা ‘সোর্স’ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে—এমন গুরুতর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের মধ্যে। অভিযুক্তকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক সমালোচনা, উত্তেজনা ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। অভিযোগ অনুযায়ী, সাবেক ওসি আল হেলাল মাহমুদই নজরুল ইসলামকে সোর্স হিসেবে নিয়োগ দেন। স্থানীয়দের দাবি, ওসি আল হেলাল মাহমুদ তাঁর মাধ্যমে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও তাঁদের পরিবারের কাছ থেকে টাকা আদায় করতেন। তিন মাসে এভাবে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে।এছাড়া প্রতিদিনই নজরুল ইসলামকে ওসির টেবিলের সামনে দীর্ঘসময় বসে থাকতে দেখা যেত বলে অভিযোগকারীরা জানান। তিনি এসআই জাহিদুল ইসলাম এবং সাবেক ওসির ঘনিষ্ঠজন হিসেবেও পরিচিত ছিলেন।
রাজনৈতিক পরিচয়ে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ: স্থানীয় সূত্রের দাবি—নজরুল ইসলাম রাজনৈতিক পরিচিতি ও পুলিশি ঘনিষ্ঠতাকে কাজে লাগিয়ে থানার অভ্যন্তরীণ কর্মকাণ্ডে প্রভাব বিস্তার করতেন। ব্যক্তিগত ক্ষমতা প্রদর্শন ও পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগও উঠেছে।অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, তাঁর সঙ্গে স্থানীয় সাংবাদিক ও সাবেক ছাত্রদল নেতা আনোয়ার হোসেনের দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। অভিযোগ রয়েছে, নজরুল ইসলাম রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা করান এবং সাংবাদিক পরিচয় আড়াল করে তাঁকে জেলে পাঠান।
পুলিশের বক্তব্য, এ বিষয়ে থানার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এসআই জাহিদুল ইসলাম জানান,“সাবেক ওসি আল হেলাল মাহমুদের সময় নজরুল ইসলাম প্রায়ই থানায় থাকতেন। আমার সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত কোনো সম্পর্ক নেই।”অন্যদিকে জাতীয় শ্রমিক লীগ নেতা নজরুল ইসলাম বলেন “ওসি সাহেবের সঙ্গে আমার ভালো সম্পর্ক ছিল। রাজনৈতিক মামলার আসামি ধরতে আমি সাহায্য করতাম। এতদিনে আমি আওয়ামী লীগের প্রায় ৫০ জন নেতা–কর্মীকে গ্রেফতার করিয়েছি। এরপর থেকেই পুলিশের সঙ্গে আমার সম্পর্ক ভালো হয়েছে।”তদন্তের দাবি, স্থানীয় সচেতন নাগরিকেরা অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত এবং রাজনৈতিক নেতাদের থানার কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রবণতা বন্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।