কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধিঃ কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে জাতীয় শ্রমিক লীগের এক সময়ের দাপটে নেতা নজরুল ইসলাম এর প্রকাশ্যে চলাফেরায় স্হানীয়দের মধ্যে নানান প্রশ্নের দেখা দিয়েছে। তার বিরুদ্ধে ফ্যাসিস্টের অভিযোগ থাকলেও তার এখনও প্রশাসনের সামনে প্রকাশ্যে চলাফেরা, বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি ও সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নেয়ায় জনমনে নানান প্রশ্নের ঘুরপাক খাচ্ছে।স্থানীয়রা জানান, জাতীয় শ্রমিক লীগ ভূরুঙ্গামারী উপজেলা শাখার এক সময়ের দাপটে এই নেতা এখন রাতারাতি বনে গেছেন বিএনপির নেতাদের সারিতে। মোঃ নজরুল ইসলাম (৪২), পাইকের ছড়া ইউনিয়নের আদর্শ গ্রামের ১ নং ওয়ার্ডের খলিল মুন্সির পুত্র। ২০১৭ সালের জাতীয় শ্রমিক লীগের ৪০ নং কাযকরী সদস্য এখন মিশিতেছে শ্রমিক দলের নেতাকর্মীদের সাথে, এমন কি বিএনপির মুল দলের নেতাকর্মীদের সাথে।
আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর দোসর মামলা থেকে বাঁচতে তিনি কিছু দিন পালিয়ে বেড়ায়। পরে স্হানীয় বিএনপির কিছু নেতাদের ছত্রছায়ায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে জাতীয় শ্রমিক লীগের নেতা নজরুল ইসলাম। আওয়ামী লীগের সময়ে যার কাজ ছিল অন্যের জমি বেআইনি ভাবে দখল করা এবং শালীস বিচারের নামে থানার দালালি করা। তার চরিত্র এখনো পাল্টে নি সময়ের সাথে সে নিজেকেও পাল্টিয়ে নিয়েছে এখন নিজেকে পরিচয় দিয়ে বেড়ায় ভূরুঙ্গামারী উপজেলা শ্রমিক দলের নেতা তথ্য বলছে বর্তমান শ্রমিক দলের ভূরুঙ্গামারী উপজেলা কমিটি তো দূরের কথা দীর্ঘ দিন থেকে নেই শ্রমিক দলের কুড়িগ্রাম জেলা কমিটিও। ২০১৭ সালের জাতীয় শ্রমিক লীগ ভূরুঙ্গামারী উপজেলা শাখা কমিটিতে থাকা একাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করলেও ধরাছোঁয়ার বাহিরে রয়েছে ফ্যাসিস্ট নজরুল ইসলাম। সে এখনো থানার দালালি করে থানায় বসে বিভিন্ন শালীস বিচার করে আসছে। স্হানীয় বিএনপির কিছু নেতাকর্মীরা বলছে নজরুল ইসলামের খুঁটির জোর কোথায়? একই কমিটির অন্যান্যদের গ্রেফতার করলেও সে এখনো প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও তাকে গ্রেফতার করছে না প্রশাসন।
সরকার পরিবর্তনের পর এক সময় আত্মগোপনে থাকা নজরুল ইসলাম আবারও প্রকাশ্যে আসেন বিএনপি কতিপয় নেতাদের ছত্রছায়ায়। সাম্প্রতিক সময়ে এই ফ্যাসিস্ট নজরুল ইসলামকে বিএনপির অঙ্গসংগঠন শ্রমিক দলের ব্যানারে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দেখা গেছে, যদিও এই দলের উপজেলা বা জেলা কমিটি নেই দীর্ঘদিন থেকে। বিরোধী রাজনৈতিক মহল এবং সাধারণ জনগণের প্রশ্ন—একাধিক অভিযোগ ও ২০১৭ সালের জাতীয় শ্রমিক লীগ ভূরুঙ্গামারী উপজেলা শাখা কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ একটি জায়গায় থাকার পরেও কি ভাবে তিনি প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ান? প্রশাসনের এই নিরবতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সচেতন নাগরিকরা।
তারা বলছেন, “আইন যদি সবার জন্য সমান হয়, তাহলে নজরুল ইসলামের মতো বিতর্কিত ব্যক্তি কীভাবে নির্বিঘ্নে চলাফেরা করছেন? প্রশাসন কি ইচ্ছাকৃতভাবে নিরব ভূমিকা পালন করছে?” না কি একটি পক্ষ ভিতরে ভিতরে আওয়ামী লীগের দোসরদের পূর্ণবাসনে কাজ করছে। এই প্রশ্ন এখন সবার মুখে মুখে। আওয়ামী লীগের দোসর নজরুল ইসলাম বিএনপির বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ গ্রহন করে কতিপয় নেতাদের সাথে চলাফেরা করার বিষয় টি কাজি আলাউদ্দিন, আহ্বায়ক ভূরুঙ্গামারী শাখা বিএনপি’র কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের দোসরদের বিএনপিতে কোন জায়গা নেই। সে বিএনপির কোন অঙ্গসংগঠনের লোকজনের সাথে মিশে সেটি একটু জানান এবক তার নাম ঠিকানা দিন আমরা দলীয় ভাবে দেখছি।
বিএনপির ড্যাব নেতা (ডক্টর) মোঃ ইউনুছ এর সাথে একটি প্রোগ্রামে তুলা ছবির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি ওই ভাবে তাকে চিনি না হয়তোবা সে প্রোগ্রামের ওই খানে এসেছিল, আমরা সকল ইউনিটকে বলে দিয়েছি আওয়ামী লীগের দোসর কোন মিটিংয়ে উপস্থিত হতে পারবেনা। এই বিষয়ে মাহফুজুর রহমন, পুলিশ সুপার কুড়িগ্রাম এর সাথে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তার কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।