এসআইয়ের ঘুষ তদন্তে অনুরোধ করায় সাংবাদিককে ‘ফ্যাসিবাদী’ বললেন এএসপি

এসআইয়ের ঘুষ তদন্তে অনুরোধ করায় সাংবাদিককে ‘ফ্যাসিবাদী’ বললেন এএসপি

ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি : কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে ঘুষ গ্রহণের একটি অভিযোগ গোপনে যাচাই–বাছাই করে দেখার অনুরোধ করায় এবং স্থানীয় এক বিতর্কিত জাতীয় শ্রমিক লীগ নেতার প্রকাশ্য চলাফেরা ও প্রশাসনের নীরবতা নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করায়, এক সাংবাদিককে প্রকাশ্যে ‘ফ্যাসিবাদী’ বলে আক্রমণ করেছেন সহকারী পুলিশ সুপার (ভূরুঙ্গামারী–কচাকাটা সার্কেল) মুনতাসির মামুন মুন। ঘটনাটি সাংবাদিক সমাজ পেশাগত দায়িত্ব পালনে হস্তক্ষেপ এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় সরাসরি আঘাত হিসেবে দেখছেন।

ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ ও সাংবাদিকের অনুসন্ধান: ভূরুঙ্গামারী উপজেলার তিলাই ইউনিয়নের হেলাল হোসেন নামের এক ব্যক্তি সাইফুর রহমান নামের এক দালালের মাধ্যমে থানার এসআই হারুনের বিরুদ্ধে ৩০ হাজার টাকা ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ করেন। জমি উদ্ধারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে টাকা নেওয়ার পরও promised ভূমি উদ্ধার না করায়, ভুক্তভোগীর ভাই বেলাল হোসেন বিষয়টি সাংবাদিকদের কাছে জানান।

অন্যদিকে, সাংবাদিক মোঃ আনোয়ার হোসেন আরিফ (সভাপতি, বাংলাদেশ প্রেস ক্লাব ভূরুঙ্গামারী শাখা; ভূরুঙ্গামারী উপজেলা প্রতিনিধি, দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ) স্থানীয় প্রভাবশালী জাতীয় শ্রমিক লীগের সাবেক নেতার প্রকাশ্যে চলাফেরা ও প্রশাসনের নীরবতা নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেন।এই বিষয়ে ব্যাখ্যা জানতে সাংবাদিক আরিফ এএসপি মুনতাসির মামুন মুনকে হোয়াটসঅ্যাপে প্রশ্ন করলে তিনি সাংবাদিককে উদ্দেশ করে বলেন, “আমি ১০০% সিওর, আপনি একজন ফ্যাসিবাদী। এই মন্তব্যের স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। স্থানীয় দেহব্যবসা চক্র ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে অভিযোগঘটনার সমান্তরালে, ভূরুঙ্গামারী সদর ইউনিয়নের দেওয়ানের খামার এলাকায় শাকিল হোসেন ও বৃষ্টি বেগমের নেতৃত্বে একটি দেহব্যবসা ও ছিনতাই চক্রের কর্মকাণ্ড প্রকাশ্যে আসে। এরা বাড়ি ভাড়া নিয়ে বিভিন্ন স্থান থেকে নারী এনে তথাকথিত দেহব্যবসা চালিয়ে আসছিল এবং ফাঁদে ফেলে ছিনতাই করত।

২৪ সেপ্টেম্বর শাহিন আলম নামে এক যুবক এই চক্রের ফাঁদে পড়ে মারধর ও ছিনতাইয়ের শিকার হন। তিন নারীসহ সংশ্লিষ্টদের আটকে স্থানীয়রা সাংবাদিক আনোয়ার হোসেন আরিফ ও মনজুরুল ইসলাম মঞ্জুকে খবর দিলে তারা পুলিশকে জানায়। কিন্তু পুলিশের প্রাথমিকভাবে ঘটনাস্থল থেকে যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে ওই রাতেই তিন নারীসহ সাতজনের নামে মামলা হলেও, সেই মামলায় সাংবাদিক আনোয়ারকে ফাঁসানোর চেষ্টার অভিযোগও প্রকাশ্যে আসে।সাংবাদিক সমাজের প্রতিক্রিয়া: সাংবাদিকরা বলছেন, একজন দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তার এ ধরনের ভাষা ব্যবহার নৈতিক, পেশাগত ও প্রশাসনিক সব মানদণ্ডের পরিপন্থী। এটি সাংবাদিকদের কাজের পরিবেশকে বাধাগ্রস্ত করে এবং পুলিশের কর্তৃত্বের অপব্যবহারকে নির্দেশ করে।

সাংবাদিক সমাজ এবং স্থানীয় সচেতন মহল দাবি জানিয়েছেন—
এএসপি মুনতাসির মামুন মুনের আচরণের বিরুদ্ধে অবিলম্বে তদন্ত করা হোক,সাংবাদিকদের হয়রানির প্রচেষ্টা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হোক, ভবিষ্যতে প্রশাসন যেন নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে তা নিশ্চিত করা হোক। সাংবাদিকরা মনে করেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষা করা গণতন্ত্রের অন্যতম ভিত্তি। প্রশাসনের দায়িত্বশীল আচরণ সেই ভিত্তিকে শক্তিশালী করবে।

( এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। )

Comments are closed.




© All rights reserved © 2024 websitenews24.com