বড় ভাই অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, ছোট ভাই ওসি-দুই জেলার বিতর্কে উভয়েই অভিযুক্ত

বড় ভাই অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, ছোট ভাই ওসি-দুই জেলার বিতর্কে উভয়েই অভিযুক্ত

বিশেষ প্রতিবেদক: কুড়িগ্রাম ও নারায়ণগঞ্জ পুলিশ প্রশাসনে এক ভাইয়ের দুই দিক থেকে উন্মত্ত বিতর্কে ফেঁসে পড়েছে দুই জেলাকে নিয়ে। বড় ভাই মোঃ হাসিনুজ্জামান বর্তমানে ফতুল্লা (নারায়ণগঞ্জ) মডেল থানার সার্কেল অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক-সার্কেল), আর ছোট ভাই আল হেলাল মাহমুদ কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)।স্থানীয় সাংবাদিক মহল অভিযোগ করছে, অতিরিক্ত পুলিশ হাসিনুজ্জামান সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মারমুখী এবং ক্ষমতা প্রদর্শনের কৌশল অবলম্বন করছেন। গত (১৭ মার্চ) নারায়ণগঞ্জের পাগলা নয়ামাটি এলাকায় এক যুবকের বিরুদ্ধে কটুক্তি মামলায় গ্রেফতার ও পরবর্তী ঘটনা তদন্ত করার সময়, সাংবাদিকরা যখন অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের অফিসে প্রবেশ করেন, তখন তিনি তাদের “ফতুল্লার সব সাংবাদিকরা দালাল” বলে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দেন। তার নির্দেশে থানার গেটের সামনে একটি বড় সাইনবোর্ড লাগিয়ে সাংবাদিকদের ভবিষ্যতে থানায় প্রবেশ নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দেওয়া হয়।

সাংবাদিকরা বলছেন, ভুরুঙ্গামারী থানার ওসি আল হেলাল মাহমুদের বিরুদ্ধে গতকাল থেকেই গণমাধ্যমে অনিয়ম, তথ্য গোপন ও দদালিয়াতিক অভিযোগ প্রকাশিত হচ্ছে। স্থানীয়দের মতে, এই বিতর্কের নেপথ্যে রয়েছে দুই ভাইয়ের গণমাধ্যম-শাসন দখল করার প্রয়াস — ক্ষমতার প্রভাব ও সাংবাদিকদের নিয়ন্ত্রণ করার উদ্দেশ্যে।নির্ধারিত যোগ্যতা অমান্য করে ওসি পদায়ন: কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী থানার ওসির পদায়ন নিয়ে নিয়ম লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগও উঠেছে। পুলিশ সদর দপ্তরের নিয়ম মেনে, একজন পরিদর্শককে ওসি পদে পদায়ন করার জন্য কমপক্ষে তিন বছরের অভিজ্ঞতা, ‘পুলিশ স্টেশন ম্যানেজমেন্ট কোর্স’ সম্পন্ন করা এবং সর্বশেষ বার্ষিক মূল্যায়ন প্রতিবেদনে (ACR) সন্তোষজনক ফলাফল দেখাতে হয়। তবে ওসি আল হেলাল মাহমুদ এসআই হিসেবে ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ সালে যোগদান করার পর মাত্র ১৫ বছর নয়, বরং পরিদর্শক পদে মাত্র ১৫ মাস পরেই ওসি হিসেবে পদায়ন পেয়েছেন — যা দাবি করা হচ্ছে স্পষ্ট নিয়ম লঙ্ঘন।

কুড়িগ্রাম পুলিশ সুপার মোঃ মাহফুজুর রহমান বাক্য দিয়েছেন, “লোকবল সংকটের কারণে বিশেষ অনুমতি নিয়ে পদায়ন করা হয়েছে, এবং বিষয়টি সদর দপ্তরে জানানো হয়েছে।” এ বিষয়ে ভুক্তভোগী সাংবাদিক পরিবার দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এ অভিযোগ করেছেন।নীতি বনাম বাস্তবতা: পুলিশ সদর দপ্তরের এক ডিআইজি (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) সাংবাদিকদের বলেন, “নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, সৎ, নিরপেক্ষ ও যোগ্য কর্মকর্তাদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। যারা ৫৪ বছরের বেশি বয়সী, যাদের আগে গুরুদণ্ড রয়েছে বা যাদের প্রশিক্ষণ ও শিক্ষাগত যোগ্যতা নেই—তারা ওসি পদে যেতে পারবেন না।” কিন্তু স্থানীয় ঘটনা বলছে, আইন ও নীতিমালার যে চাহিদা রয়েছে, তারা তা মেনেই পদায়ন করছেন কি না — সেটি প্রশ্নবিদ্ধ।

বিশ্লেষণ ও সম্ভাব্য প্রভাব: দুই ভাইয়ের এই বিতর্ক কেবল একটি পরিবারের মধ্যে রাজনৈতিক প্রভাব এবং প্রশাসনিক ক্ষমতার দখল নেয়ার ঘটনাই নয় এটি গণমাধ্যম স্বাধীনতা, শৃঙ্খলা ও ন্যায্য নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পর্কে বড় প্রশ্ন উঠাচ্ছে। সাংবাদিকেরা বলছেন, “যদি তদন্ত হয় এবং সত্য উদঘাটিত হয়, তাহলে কুড়িগ্রাম পুলিশের দায়িত্ব ও জবাবদিহি পুনরায় গড়ে তোলা দরকার।”এদিকে, স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মন্তব্য করছেন, “এটি এক পরিবারের ক্ষমতার যুগল জয়, যেখানে একজন আইন প্রয়োগকারী হিসেবে ওসি এবং অন্যজন প্রশাসনিক ওপর গুরুত্বপূর্ন সার্কেল পজিশনে – ক্ষমতার ঘনিষ্ঠ বন্ধন গঠন করেছেন।”বর্তমানে ওসি আল হেলাল মাহমুদ এবং তার ভাই অতিরিক্ত হাসিনুজ্জামান কে দৃষ্টান্তমূলক তদন্ত দাবি করছে সাংবাদিক ও মানবাধিকার গোষ্ঠী।

( এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। )

Comments are closed.




© All rights reserved © 2024 websitenews24.com