ওসি মনজুর কাদের ভুইঁয়া’র দালালের বলি এএসআই খোরশেদ

ওসি মনজুর কাদের ভুইঁয়া’র দালালের বলি এএসআই খোরশেদ

স্টাফ রিপোর্টার,( কক্সবাজার ) : কক্সবাজারের চকরিয়ায় সদ্য প্রত্যাহার হওয়া বিতর্কিত ওসি মনজুর কাদের ভুইঁয়া ও তার লালিত পালিত দালাল কথিত সাংবাদিকের বলি হলো এএসআই খোরশেদ এবং পেশাদার স্থানীয় সাংবাদিক তৌহিদ । এসআই খোরশেদকে মিথ্যা তকমা দিয়ে অহেতুক কুতুবদিয়ায় বদলী করে আদেশ জারি করেছে কক্সবাজার জেলার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার শাকিল আহমেদ । বিষয়টি নিয়ে তুমুল সমালোচনার প্রশ্ন উঠেছে উপজেলায়। এবং সাংবাদিক নামধারী এই দালালের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে নারী কেলেঙ্কারী থেকে শুরু করে নানা অভিযোগের পাহাড় জমা হয়েছে বলে অভিযোগ উপজেলার অধিকাংশ মানুষের।

এদিকে দৈনিক বাংলাদেশের খবর পত্রিকার চকরিয়া-পেকুয়া প্রতিনিধি তৌহিদুল ইসলাম জানান, আমাকে সাহারবিল মাইজঘোনা গ্রামের জাকের উল্লাহ’র পুত্র স্বৈরাচারের দোসর বহু মামলার আসামী সদ্য প্রত্যাহার হওয়া বিতর্কিত ওসি মনজুরের একান্ত বিশ্বস্ত দালাল এবং নিয়মিত থানার সোর্স হিসেবে পরিচিত মোহাম্মদ উল্লাহ বিভিন্ন সময় হুমকি দিয়ে মানসিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করে আসছে ।

নিজে একজন মাঠপর্যায়ের সাংবাদিক হিসেবে চকরিয়া থানার এএসআই খোরশেদ ভাইয়ের সাথে সাক্ষাৎ করে কিছু নিউজ সংক্রান্ত বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করছিলেন। ঐসময় সাংবাদিক তৌহিদ ও এএসআই খোরশেদ হেঁটে হেঁটে আনুমানিক ৫ মিনিট কথা বলে । কিন্তু পিছনে থাকা বিতর্কিত ওসি মনজুরের কথিত ধান্ধাবাজ নামধারী দালাল মোহাম্মদ উল্লাহ থানার সামনে থাকা বাইক নিয়ে আমাদের পেছনে গিয়ে ভিডিও করে । এবং সে নিজেকে সাংবাদিকনেতা পরিচয় দিয়ে এএসআই খোরশেদ’র নিকট দুই লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে কথিত সাংবাদিক মোহাম্মদ উল্লাহ এবং চাঁদা না দিলে চকরিয়ায় থাকতে দিবেনা, সেন্টমার্টিন পাঠিয়ে দিবে বলেও হুমকি দেয়। কিন্তু পরিশেষে এই নাটকের বলী হয়ে কুতুবদিয়াতে বদলি করার পরেও এখন মিথ্যা মাদকের তকমা দিয়ে নানাভাবে হয়রানীমূলক আচরণ করে যাচ্ছে দালাল মোহাম্মদ উল্লাহ।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে এএসআই খোরশেদ জানান, আমি চকরিয়ায় বদলী হয়ে আসছি মাত্র দুই মাস, এখনও সরকারী বেতন পাইনি । সাংবাদিকদের সাথে দানার দালাল কথিত সাংবাদিক মোহাম্মদ উল্লাহ’র সাথে মধ্যে ব্যক্তিগত সমস্যা থাকতে পারে, তাতে আমি কেনইবা সাংবাদিক মাহমুদউল্লাহকে টাকা দিতে যাব, সাংবাদিকদের সাথে মোহাম্মদ উল্লাহর দন্ধ থাকতে পারে, সে বিষয়টি নিয়ে আমার কেন লাঞ্ছিত হতে হবে। আমি কোন অপরাধে জড়িত না । আমি সবসময় সবার সাথে কথা বলি। এবং মোহাম্মদ উল্লাহ এবং সাংবাদিক তৌহিদের সাথেও সাক্ষাৎ হলে কথাবার্তা হয়। তবে সাংবাদিক মাহমুদউল্লাহ তার ব্যক্তিগত ভেরিফাই পেইজবুকে আইডি হতে আমার বিরুদ্ধে যে অপপ্রচার করছে তা অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং দুঃখজনক। আমি মোহাম্মদ উল্লাহ নামের এই দালালের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

দেশের ক্রান্তিলগ্নে বাংলাদেশ পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে ব্যক্তিগত রেশারেশির ফলে একজন সংবাদকর্মীর সাথে যোগাযোগ করার কারণে একজন সৎ পুলিশ কর্মকর্তাকেও মাদক সিন্ডিকেটের তকমা লাগানোতে খুবই মর্মাহত চকরিয়ার সচেতন মহল। পাশাপাশি মোহাম্মদ উল্লাহ নামের এই অপরাধীকে থানা সেন্টার এরিয়া থেকে বিতাড়িত করার জন্য অনুরোধ করছে স্থানীয় সচেতন মহল।একইভাবে সাংবাদিক তৌহিদুল ইসলাম জানান, কথিত সাংবাদিক মোহাম্মদ উল্লাহর বিরুদ্ধে মাদক চোরাচালান,নারী কেলেঙ্কারি,মানবপাচার,শিক্ষক নির্যাতন, আইসিটি মামলাসহ বহু মামলা রয়েছে।থানায় দালালী,চকরিয়ায় পতিতা ব্যবসার প্রচলন সে শুরু করেছিল। সকল অপকর্ম ঢাকতে সে সাংবাদিকতাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। এসব অপরাধ সবচেয়ে বেশি আওয়ামী লীগের আমলে করার পরেও নতুন করে ওসি মনজুরের হাত ধরে সকল অপকর্মে পুনরায় জড়িয়ে পড়েন এই প্রতারক ও দালাল মোহাম্মদ উল্লাহ।

ইতিপূর্বে দালাল মোহাম্মদ উল্লাহ’র বিরুদ্ধে পশ্চিম বড় ভেওলা ইউনিয়নের ৯নম্বর ওয়ার্ড ইলিশিয়া চোয়ারফাঁড়ি গ্রামের বাসিন্দা বর্তমান চকরিয়া পৌরসভা ৩নং ওয়ার্ড বাটাখালী গ্রামে বসবাসরত জামাল উদ্দিনের স্ত্রী নুরফা বেগম বাদী হয়ে থানায় শ্লীলতাহানির লিখিত এজাহার দায়ের করেন। এর আগেও তার বিরুদ্ধে রয়েছে অসংখ্য নারী কেলেঙ্কারি,ডাকাতি,ছিনতাই ও হত্যাচেষ্টাসহ বহু মামলা।

( এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। )

Comments are closed.




© All rights reserved © 2024 websitenews24.com