সাদিকুল ইসলাম, চট্টগ্রাম : আটক-গ্রেপ্তার এড়াতে কৌশল পরিবর্তন করেছে মাদক ব্যবসায়ীরা। আগে নির্ধারিত পয়েন্টে অবস্থান করে মাদক বিক্রি করলেও এখন কেনাবেচার বেশিরভাগই হচ্ছে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে।
এতে মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তার করা নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে খোদ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। বিশেষ করে ভয়ংকর মাদক আইস ও ইয়াবার বেশিরভাগই বিক্রি হচ্ছে অনলাইনে। কিছু অ্যাপস ব্যবহার করছেন মাদক কারবারিরা। সব মিলিয়ে মাদকের বাজার অনলাইনে ঢুকে পড়ায় মাদক ব্যবসায়ীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার এবং মাদকের বিস্তাররোধ করতে বেগ পেতে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের। কর্মকর্তারা বলছেন, কোথায় মাদক হস্তান্তর করা হবে তা মুঠোফোন বা হোয়াটসঅ্যাপ-ম্যাসেঞ্জারে কথা বলে আগে থেকেই ঠিক করে নেন ক্রেতা-বিক্রেতা। টাকাও আগেভাগেই চলে যায় বিকাশসহ মোবাইলব্যাংকিং পদ্ধতিতে। ফলে বোঝার উপায় থাকে না যে, কে কোথায় কাকে মাদক সরবরাহ করছে।
আগে নির্দিষ্ট পয়েন্টগুলোতে অভিযান চালালে মাদক বিক্রি বন্ধ করা সম্ভব হতো। কিন্তু এখন মাদক বিক্রির ধরন বদলে যাওয়ায় মাদক সরবরাহকারী বা বিক্রেতাকে চিহ্নিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এছাড়া মূল মাদক ব্যবসায়ীরা সেলসম্যান বা সাব এজেন্ট নিয়োগ দিয়ে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করছে। এতে ক্রেতারা ঘরে বসে অর্ডার দিলেই সুবিধাজনক স্থানে পৌঁছে যাচ্ছে মাদক। যা এখন সবচেয়ে ভয় ও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিভিন্ন নামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাদক কারবারে জড়িত অন্তত অর্ধশত গ্রুপ রয়েছে। অনলাইনে মাদক বিক্রির ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাত থেকে রক্ষা পেতে প্রক্সি সার্ভার ব্যবহার করছেন কেউ কেউ। আবার কোনো কোনো গ্রুপ পরিচালনা করা হচ্ছে দেশের বাইরে থেকে। নানা নামে পরিচালনা করা হচ্ছে এসব গ্রুপ। এসব গ্রুপের প্রধান চট্টগ্রামের মাদক কারবারি সুমন সেন। নিজেকে আড়াল করতে সিটিজি অনলাইন টিভির নামে ভুয়া খুলে প্রভাব বিস্তার করে চট্টগ্রামে মাদক কারবার চালিয়ে যাচ্ছে।
সুমন সেনের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে চট্টগ্রাম নগরীর পাঠানতুলি এলাকায়। সেখানে ৪৩ টি মাদকের স্পট নিয়ন্ত্রণ করেন সুমন সেন। এবং নিজেকে মাদক ব্যবসার পাশাপাশি ভারতের গোয়েন্দা সংস্থার এজেন্ট হিসেবে কাজ করছে। ইতিমধ্যে মাদক ব্যবসার পাশাপাশি নিজেকে সিটিজি অনলাইন টিভির সম্পাদক দাবি করে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করছে।
গোয়েন্দা সূত্র বলছে, টেকনাফ থেকে ইয়াবা ও আইস এনে তা গোপন চ্যাটিংয়ের (যোগাযোগ) মাধ্যমে উচ্চবিত্তদের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে।
আমার নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দেয়। সুমন সেনের কাছে জানতে চাইলে, তিনি বলেন আমি সিটিজি অনলাইন টিভির সম্পাদক। আমি কারো বিরুদ্ধে নিউজ করলে বক্তব্য লাগে না। অনলাইন পত্রিকাটি অনুমোদন আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন অনুমোদন লাগেনা। আবেদন করেছি তাড়াতাড়ি হয়ে যাবে।