এই আবেদনে তিনি আরও বলেন, আমাকে অন্যায়ভাবে শহীদ সাগর হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলায় আসামি করা হয়েছে। অথচ মামলার বাদী এক পত্র মারফত জেলা পুলিশ সুপারকে অবহিত করেছেন যে- আমি সাগর হত্যা মামলার সন্দেহভাজন আসামি নই। এই অবস্থায় আমার আবেদনটি তদন্তপূর্বক সুবিচারের প্রার্থনা করছি। তবে শামীমের ছাত্রদলের রাজনীতি প্রসঙ্গে জামালপুর জেলা বিএনপির বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপির নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ ওয়ারেস আলী মামুন বলেন, আমিনুল হক শামীম জামালপুরের আশিক মাহমুদ কলেজে লেখাপড়া করেছেন বলে শুনেছি। তখন তিনি সেখানে ছাত্রদলের পদে ছিল বলে আমাদের কাছে কোনো তথ্য বা প্রমাণ নেই। যদি করেও থাকেন তবে বিগত সময়ে তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে প্রতিষ্ঠিত আওয়ামী লীগ নেতা হিসেবে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছেন। নির্বাচনও করেছেন আওয়ামী লীগের ডামি প্রার্থী হিসেবে। এখন অতীতের পদ-পদবির কথা বলে বিগত সময়ের অপকর্ম ঢাকার সুযোগ নেই।
স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, আমিনুল হক শামীম এক সময় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন উল্লেখ করে বিগত কয়েক বছর আগে একাধিক জাতীয় পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হয়। তখন সংশ্লিষ্ট পত্রিকার সম্পাদক ও সাংবাদিকদের আসামি করে ময়মনসিংহ আদালতে মামলা করেছিলেন তিনি। পরবর্তীতে ওই মামলাটি আপস মীমাংসা হয়। তবে এসব বিষয়ে জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও আমিনুল হক শামীমের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ তাকে ক্ষুদেবার্তাও পাঠানো হয়। কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সফিকুল ইসলাম খান শফিক বলেন, আমিনুল হক শামীম সাগর হত্যাসহ সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের হওয়া মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। এছাড়াও তিনি একাধিক মামলার সন্দেহভাজন আসামি। বর্তমানে তিনি পলাতক রয়েছেন, তবে গ্রেপ্তার অভিযান চলমান আছে।
অভিযোগের বিষয়ে ময়মনসিংহ রেঞ্জ পুলিশের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) ড. মো. আশরাফুর রহমান বলেন, পুলিশ ও সিভিল প্রশাসনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য ওই আওয়ামী লীগ নেতা সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে দরখাস্ত করছেন। অথচ তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলাসহ নানা অপকর্মের জড়িত থাকার তথ্য রয়েছে। মূলত প্রশাসনকে বিব্রত করার উদ্দেশ্যেই তিনি নিজে এবং তার অনুগত অন্যদের দিয়ে এসব দরখাস্ত করে প্রপাগান্ডা ছড়াচ্ছেন।