ইসরাত জাহান তানিয়া, নিজস্ব সংবাদদাতা :ময়মনসিংহে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক পরিচয়ে প্রাইভেট হাসপাতাল, সরকারী অফিস,বালুমহাল জমিদখল, ভুমি অফিস, চিকিৎসকদের অপহরণের পর মুক্তিপণ আদায়, আওয়ামীগের নেতাদের গ্রেপ্তার করলে ছাড়িয়ে নিতে থানায় তদবির, আওয়ামী লীগের দোসর সাবেক কাউন্সিলর শফিকুল ইসলাম মিন্টুকে ছাড়াতে থানায় অবস্থান ও কর্মসূচি,চাঁদা না দিলে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি, মানববন্ধনের হুমকি ও ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র টিটু ও তার ভাই আমিনুল হক শামীমের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে স্লোগান এবং টাকার বিনিময়ে কর্মসূচি, তাদের পরিবার ও আত্মীয়-স্বজন আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ ও দোসর থাকা সত্বেও নিজেদের সমন্বয়ক পরিচয়ে বিভিন্ন চাঁদাবাজি করছে।
কেউ প্রতিবাদ করলেই তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান কর্মসূচি দেওয়ার হুমকি প্রদান করে। আজিজুল হক নামের এক ভুক্তভোগী আইজিপি বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেছেন। ভুক্তভোগীরা মামলা করলেও থেমে নেই চক্রটি। এমন কর্মকাণ্ডের সাথে ১৫ থেকে ২০ জন যুবক তাদের সিয়াম ও রোহান নামের দুই যুবকের নেতৃত্বে নগরী সব জায়গায় চাঁদাবাজি করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ময়মনসিংহ নগরীর সরকারি চাকুরীজীবি এবং ব্যবসায়ীদের টার্গেট করে তারা এসব অপকর্ম করছে। রাস্তাঘাটেও ছিনতাই এবং চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। ময়মনসিংহের এক সমন্বয়ক জানান, নগরী বা জেলা-উপজেলাতে কোনো কমিটি নেই। যারা সংগঠনের নাম ব্যবহার করে এসকল ঘৃণিত অপকর্ম করছেন, তাদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ময়মনসিংহ নগরীর কথিত সমন্বয়কদের উৎপাত বেশি বাড়ছে। নগরীর আলিফ হাসপাতালের মালিক জানান, প্রথমে আমার হাসপাতালে কাগজপত্র চায় সিয়াম ও রোহান । আমি দেখাতে রাজি হয়নি। পরবর্তীতে সমন্বয়ক সিয়াম দাবি করে নানা রকম হুমকি দিয়ে যাচ্ছে।
গত ২৮ ডিসেম্বর সাবেক কাউন্সিলর শফিকুল ইসলাম মিন্টুকে আটক করেন ময়মনসিংহ জেলায় দায়িত্বরত যৌথবাহিনি । তারপর সমন্বয়কের পরিচয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় ছুটে যান সিয়ামসহ ১২ জন যুবক। তারা নিজেদের সমন্বয়ক পরিচয় দেন। হাজতখানা থেকে জোরপূর্বক জাসদ(ইনু) সাবেক কাউন্সিলর শফিকুল ইসলাম মিন্টুকে ছাড়িয়ে নিতে পুলিশকে চাপ প্রয়োগ করেন। বিশ্বস্তসূত্রে জানা যায়, জাসদ ইনু সমর্থক ময়মনসিংহ নগরীর ত্রাস হিসাবে পরিচিত মিন্টু কাউন্সিলরকে ছাড়িয়ে আনতে মিন্টুর স্ত্রীর কাছ থেকে সমন্বয়ক সিয়াম ও রোহান ৭ লাখ টাকা নেন।
চরপাড়া ব্যবসায়ী উজ্জ্বল মিয়া জানিয়েছেন, তার কাছে সমন্বয়ক পরিচয়ে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। একইভাবে ২৩ ডিসেম্বর সিয়াম, রোহান,হাসান, হোসেন, রুহুল আমিন, খসরুল আমিনসহ কয়েকজন আবারও চাঁদা দাবি করেন। পরদিন ময়মনসিংহ কোতোয়ালি থানায় অভিযোগ দেন তিনি। ভুয়া সমন্বয়ক সিয়াম ও তাঁর সহযোগীদের গ্রেফতার করতে ৩০ ডিসেম্বর ময়মনসিংহ নগরীতে সাধারণ মানুষরা প্রতিবাদ বিক্ষোভ করেন।