ইবির আইন বিভাগের প্রবীণ শিক্ষার্থীদের বিদায়ী সংবর্ধনা

ইবির আইন বিভাগের প্রবীণ শিক্ষার্থীদের বিদায়ী সংবর্ধনা

ইবি প্রতিনিধিঃ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের অন্তর্ভুক্ত আইন বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৬ নভেম্বর) বেলা ১২ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মীর মোশাররফ হোসেন একাডেমিক ভবনের ২৩৭ নং কক্ষে এই বিদায় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শাহরিয়ার কবীর রিমন ও ফারহা শারমিন বিন্দু সঞ্চালনায় এবং বিভাগীয় সভাপতি অধ্যাপক ড. রেবা মন্ডলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মুহাম্মদ নসরুল্লাহ। এছাড়াও আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ড. নুরুন্নাহার, অধ্যাপক ড. হালিমা খাতুন, ড. মাকসুদা আক্তার মুনিয়া, অধ্যাপক ড. আনিচুর রহমান, সহযোগী অধ্যাপক ড. আরমিন খাতুন এবং বিভাগের তিন শতাধিক শিক্ষার্থীবৃন্দ।

স্মৃতি রোমন্থন অংশে বিদায়ী শিক্ষার্থীরা বলেন, আজ থেকে কয়েকবছর আগে বাবা মায়ের হাত ধরে গুটি গুটি পায়ে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছিলাম। আসতে আসতে সিনিয়র হয়েছি, তারপর একটা সময় আমাদের বিদায়ের সময় হাজির হয়েছে। আর কখনো আমাদের মেসেঞ্জার গ্রুপে ক্লাসের নোটিশ আসবে না, দুপুর ২ টার পরের ক্লাস নিয়ে কেও শোরগোল করবে না, এসাইনমেন্ট, প্রেজেন্টেশন, সেমিস্টার ফাইনাল নিয়ে আর চাপে থাকবো না। এই বিভাগ শুধু আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা দেয়নি, একজন প্রকৃত মানুষ হওয়ার শিক্ষা দিয়েছে। আমরা আজীবন এই বিভাগের কাছে ঋণী।

বিদায়ী সম্ভাষণে বিভাগের শিক্ষকরা বলেন, এটা বিদায় নয়। এটা শুধু জায়গার পরিবর্তন, স্থানের পরিবর্তন ও দায়িত্বের পরিবর্তন। আমাদের শিক্ষার্থীরা কখনো সাবেক হয়না, তারা সবসময়ই আমাদের শিক্ষার্থী ই রয়ে যায়। আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি তোমাদের সঠিক শিক্ষাটা দিতে, জীবনে চলার পথকে সহজ করে দিতে৷ যেসব কারণে তোমরা সময়মতো বের হতে পারোনি তার দায়ভার সম্পূর্ণ আমাদের। তোমরা সবসময়ই আমাদের হৃদয়ে জাগ্রত থাকবে। দেশ বিদেশের যেখানেই যাও তোমরা আমাদের, এই বিভাগের ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মুখ উজ্জ্বল করবে, এটাই প্রত্যাশা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব নসরুল্লাহ বলেন, তোমরা এতদিন এই বিভাগকে থেকে যা যা আহরণ করেছো সেগুলো এখন দেশবাসীকে দেবার পালা। স্কুল কলেজের মতো এই বিশ্ববিদ্যালয়ও তোমার পরিচয় হিসেবে অতীত হয়ে যাবে কিন্তু বাংলাদেশ কখনো অতীত হবে না। ঢাকার বাইরে হলেও এই বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক কিছু রয়েছে, বিভিন্ন জায়গায় তোমাদের অংশগ্রহণ রয়েছে। তোমরা খুব একটা পিছিয়ে নেই। তোমাদের সামনে অনেক অপশন রয়েছে, তোমরা চাইলে আইনজীবী হতে পারবে, জজ হতে পারবে অথবা অন্য জায়গায় নিজেকে রাখতে পারবে। তোমার সম্ভাবনাকে তুমি কাজে লাগানোর চেষ্টা করবে।

উপাচার্য আরো বলেন, যদি সম্ভব হয় তাহলে আমি এই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক মূল্যায়নের ব্যবস্থা করবো। শিক্ষকদের মূল্যায়ন মানে অন্য কিছু নয়, তারা নিজেদের আরো সমৃদ্ধ করতে পারবে। এতদিন তোমাদের উপর কোন দায়িত্বশীলতা ছিলো না। এতদিন শুধু নিজেদের অধিকারের জন্য দাবী জানিয়েছ কিন্তু এখন তোমাকে অন্যজনের দায়িত্ব নিতে হবে। মনে রাখবে, তুমি শুধু নিজের জন্য বড় হওনি, তুমি সবার জন্য হয়েছো। জীবনে সফল হতে কঠোর পরিশ্রম করবে কারণ কঠোর পরিশ্রম ছাড়া কেও বড় হতে পারে না।

( এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। )

Comments are closed.




© All rights reserved © 2024 websitenews24.com