বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহের ১৩৪ তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধনীতে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, লালন শাহ ছিলেন বৈষম্যবিরোধী সাধক। তিনি তার গান ও বাণীর মাধ্যমে সমাজের সকল অসঙ্গতি এবং বৈষম্যের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। “জাত গেল জাত গেল বলে, এ কি আজব কারখানা” ও “সব লোকে কয় লালন কি জাত সংসারে” গানের মাধ্যমে তিনি এসব বার্তা সমাজে ছড়িয়ে দিয়েছেন।
ছেঁউড়িয়াতে অনুষ্ঠিত এ স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ফরিদা আখতার আরও বলেন, লালন ছিলেন সাধক, সম্রাট নয়। তাঁর বাণী সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রতিফলিত হয় এবং তিনি মানবতা, সাম্য ও অসাম্প্রদায়িকতার পক্ষে কথা বলেছেন। নারী নির্যাতন ও পরিবেশ ধ্বংসের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে লালনের বাণীকে ধারণ করার আহ্বান জানান তিনি।
লালন শাহের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ফরিদা আখতার বলেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যদি সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে না পারে, তবে আপনারা আমাদের সমালোচনা করবেন।” এছাড়া, লালন একাডেমিতে লালন শাহের বাণী সংরক্ষণ ও গবেষণার দাবি জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে কুষ্টিয়ার ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক শারমিন আখতারের সভাপতিত্বে আলোচনা সভার পর লালন একাডেমির শিল্পীরা লালনের গান পরিবেশন করেন। কালী নদীর তীরে আয়োজিত এই উৎসবটি পরিণত হয়েছে এক মিলন মেলায়, যেখানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সাধু-ভক্তরা অংশগ্রহণ করেছেন।