অনলাইন ডেস্ক, নেত্রকোণার আলো ডটকম:
জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের এক মামলায় আত্মগোপনে থাকা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ ৪৫ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। তাদেরকে গ্রেপ্তার করে ১৮ নভেম্বরের মধ্যে আদালতে হাজির করতে বলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ অক্টোবর) বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।
এর আগে একই ধরনের অপরাধের আরেক মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনার বিরুদ্ধেও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ১৫ জুলাই থেকে ৫ আগস্টের মধ্যে ঘটে যাওয়া হত্যাকাণ্ড ও সহিংসতা এর অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া, এই সময়ে আহত হয়ে পরবর্তীতে মারা যাওয়া ব্যক্তিরাও মামলার আওতায় পড়ছেন। ঘটনাস্থল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে সমগ্র বাংলাদেশকে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, এক থেকে নয় নম্বর আসামির পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় অন্যান্য আসামিরা দেশীয় ও আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে সাধারণ নিরস্ত্র ছাত্র ও জনতাকে নির্বিচারে গুলি করে হত্যার মাধ্যমে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত করেছে।
এই গণহত্যার ঘটনায় শেখ হাসিনা, তার মন্ত্রিসভার সদস্য, ১৪ দলীয় জোটের নেতা, পুলিশের তৎকালীন আইজিপি, র্যাবের তৎকালীন ডিজি এবং আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাদের বিরুদ্ধে অর্ধশতাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে।
স্বাধীনতার ৩৯ বছর পর মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য ২০১০ সালের ২৫ মার্চ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের যাত্রা শুরু হয়। ২০১২ সালের ২২ মার্চ ট্রাইব্যুনাল-২ গঠন করা হয়, যা ২০১৫ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর একীভূত করে একটি ট্রাইব্যুনাল করা হয়। বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ বিচারকাজ পরিচালনা করছে।
গত ৫ আগস্ট পট পরিবর্তনের পর ট্রাইব্যুনালের তৎকালীন চেয়ারম্যান অবসরে যান, এবং একজন সদস্যকে হাইকোর্টে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে, ৫ সেপ্টেম্বর নতুন প্রসিকিউটরদের নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
১৪ অক্টোবর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয় এবং ১৫ অক্টোবর নতুন বিচারক প্যানেল তাদের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৬ অক্টোবর প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে তাদের সংবর্ধনা জানানো হয় এবং ১৭ অক্টোবর প্রথমবারের মতো বিচার কার্যক্রম শুরু করেন ট্রাইব্যুনাল।