অনলাইন ডেস্ক, নেত্রকোণার আলো ডটকম:
ভারতের মহারাষ্ট্র সরকার ভোটের আগে সংখ্যালঘুদের কাছে টানতে মাদরাসা শিক্ষকদের বেতন তিনগুণ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। একই সঙ্গে সংখ্যালঘু তহবিলে অর্থের পরিমাণও বাড়ানো হয়েছে। গতকাল শুক্রবার এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে।
চলতি বছরেই মহারাষ্ট্রে বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যদিও এখনও সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণ ঘোষণা করেনি ভারতের নির্বাচন কমিশন। এর মধ্যে মহারাষ্ট্রের একনাথ শিন্ডের সরকার বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্পের মাধ্যমে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে খুশি করতে উঠেপড়ে লেগেছে।
সম্প্রতি ধাঙড় গোষ্ঠীর ভোটকে গুরুত্ব দিয়ে তাদের তপসিলি জনজাতি (এসটি) সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে বিক্ষোভের মধ্যে ওবিসি, আদিবাসী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জন্য একাধিক প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে মহারাষ্ট্র সরকার। বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে জনকল্যাণমূলক ৮০টি প্রস্তাব উত্থাপিত হয়, যার মধ্যে ৩৮টি প্রস্তাবে অনুমোদন দেয় একনাথ শিন্ডের সরকার।
মহারাষ্ট্রে ডিএড প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকদের মাসিক বেতন ৬ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৬ হাজার টাকা করা হয়েছে। এছাড়া বিএড ও বিএসসি বিএড প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকদের বেতন ৮ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১৮ হাজার টাকা করা হয়েছে। নন ক্রিমি লেয়ার আয়ের সীমা ৮ লাখ থেকে বাড়িয়ে ১৫ লাখ টাকা করা হয়েছে।
আদিবাসী উন্নয়নের লক্ষ্যে শবরী ট্রাইবাল ফাইন্যান্সের আর্থিক অনুদানের পরিমাণ ৫০ কোটি থেকে বাড়িয়ে ১০০ কোটি করা হয়েছে। পাশাপাশি সংখ্যালঘু উন্নয়নে আর্থিক বরাদ্দের পরিমাণ ৭০০ কোটি থেকে বাড়িয়ে ১০০০ কোটি করা হয়েছে।
মহারাষ্ট্রের বর্তমান সরকারের মেয়াদ চলতি বছরের ২৬ নভেম্বর শেষ হচ্ছে। তার আগেই বিধানসভা নির্বাচন হবে। সদ্য শেষ হওয়া লোকসভা নির্বাচনে বর্তমান এনডিএ সরকার ভালো ফল করতে পারেনি। তারা বুঝতে পেরেছে, জনসমর্থন পাচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে হিন্দু ভোটারদের কাছে টানতে দেশি গরুকে ‘রাজ্য মাতা’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। ধাঙড় সম্প্রদায়কে গুরুত্ব দিয়ে তপসিলি জনজাতি (এসটি) অন্তর্ভুক্ত করার পর এবার মুসলিম ভোটারদের মন পেতে মাদরাসা শিক্ষকদের বেতন বাড়ানোর ঘোষণা দিল একনাথ শিন্ডের সরকার।