নিজস্ব প্রতিবেদক: ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের (মসিক) ৩২ নম্বর ওয়ার্ডে জাতীয়তাবাদী তাঁতী দলের ময়মনসিংহ কোতোয়ালি থানা শাখার সিনিয়র সহসভাপতি এবং দৈনিক ময়মনসিংহ প্রতিদিন-এর প্রকাশক ও সম্পাদক, যুবদল নেতা আবুল বাশার লিংকনের বসতবাড়িতে পিস্তল ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ভয়াবহ হামলা ও লুটপাট চালিয়েছে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা।
গত ৪ জানুয়ারি (রোববার) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে এ হামলার ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।ভুক্তভোগীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তার ক্রয়কৃত (সাফকাওলা) জমির রাস্তা দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল স্থানীয় নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ কর্মী শামীম মিয়া, জাহাঙ্গীর আলম, ফারুক, রুবেল, বজলু, তনু ও শহীদ পাগলাগংসহ একটি চক্র। এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে আবুল বাশার লিংকন কোতোয়ালি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগটির তদন্তের দায়িত্ব পান এসআই রিপন চন্দ্র সরকার।
তদন্ত কর্মকর্তা এসআই রিপন চন্দ্র অভিযোগের বিষয়ে জানতে শামীম মিয়াকে ফোন করলে কিছুক্ষণ পরই ক্ষিপ্ত হয়ে তার নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী পিস্তল ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে লিংকনের বাড়িতে হামলা চালায়। সে সময় লিংকন বাড়িতে একা থাকায় সন্ত্রাসীরা তাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ঘরে তল্লাশি চালায়। এসময় তারা ড্রয়ারে রাখা নগদ ২ লাখ টাকা এবং প্রায় ২ ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায়। হামলার সময় ভুক্তভোগী দ্রুত কোতোয়ালি থানায় খবর দিলে এসআই রহিমের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, হামলার মূল হোতা শামীম মিয়া একজন চিহ্নিত মাদকসেবী ও মাদক কারবারি। এলাকায় সে ‘নিশা জগতের সম্রাট’ নামে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে ছিনতাই, জমি দখলসহ একাধিক অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। আবুল বাশার লিংকন সাবেক ছাত্রনেতা ও বর্তমান যুবদল নেতা হিসেবে দুঃসময়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। বিগত আওয়ামী শাসনামলে তিনি বারবার জুলুম ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর ‘নতুন বাংলাদেশে’ও নিষিদ্ধ আওয়ামী সন্ত্রাসীদের এমন বেপরোয়া হামলায় তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। কোতোয়ালি থানা পুলিশ জানায়, অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত চলছে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।