ফয়সাল হাওলাদার : কক্সবাজার জেলা চকরিয়া থানা ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়ার মাসে অবৈধ আয় ৪৫ লাখ টাকা। কক্সবাজার ঈদগা পুলিশ ফাঁড়ীতে দুই বছর কর্মরত থাকা অবস্থায় বিএনপি-জামায়াতের একাধিক নেতা ও ঈদগাঁতে গায়েবী মামলার মাস্টারমাইন্ড হিসেবে পরিচিত এই মনজুর কাদের ভূইয়া। ২০১২-১৪ সাল পর্যন্ত ঈদগাঁও তদন্ত কেন্দ্রের আইসি থাকাকালীন নানা অপকর্মের জন্ম দেন তিনি। প্রাপ্ত তথ্য মতে, ২০১৩ সালের শুরুর দিকে আল্লামা সাঈদীর মামলার রায় পরবর্তী বিক্ষোভ দমনে ঈদগাঁও পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সামনে রশিদ নামের এক ব্যক্তিকে ‘পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জে প্রথমে গুলি করে ও পরে তদন্ত কেন্দ্রের ভিতরে নিয়ে গিয়ে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করেন মনজুর কাদের ও তার অপর সহযোগী সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) রূপন চৌধুরী। এ ঘটনায় বিএনপি- জামায়াত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন তিনি।

(মামলা নং জিআর ১৬৫/ ২০১৩)। এছাড়া ঈদগাঁওকে ঘটনাস্থল দেখিয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় ডজনখানেক গায়েবী মামলা দায়ের করেন তিনি। তখন ঈদগাঁও বাজারের ব্যবসায়ীর বিভিন্ন শ্রেণী পেশার লোকজনকে গনহারে আটক করে তদন্ত কেন্দ্রে নিয়ে আসতেন। পরে দাবীকৃত পরিমান টাকা না দিলে অকথ্য নির্যাতনের পর গায়েবী মামলায় আটক দেখিয়ে চালান দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। এভাবে ২০১৪ সালে ক্রসফায়ারের নামে শত শত পরিবারের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা বাণিজ্য করেন।
ওসি মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন ঈদগা স্থায়ী বাসিন্দা নুর মোহাম্মদ। তিনি অভিযোগে বলেন, ওসি মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়া ঈদগাহতে কর্মরত থাকাকালীন সময়ে ক্রসফায়ার ও ইয়াবা ব্যবসা সাথে জড়িত এমন অভিযোগে সাধারণ মানুষকে ধরে নিয়ে আটক করে কোটি কোটি টাকা অবৈধ পথে আয় করেছেন।
গত ২৫ ও ২৬ শে ডিসেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) এ দুটি অভিযোগ দাখিল হয়।

দুদকের প্রধান কার্যালয়ে ওসি মনজুর কাদের ভূইয়া’র বিরুদ্ধে দুর্নীতি,অবৈধ সম্পদ অর্জন, গ্রেফতার বাণিজ্য ও চাঁদাবাজির অভিযোগ দেন আবুল খায়ের নামের আরেক ব্যক্তি। দুদকে দেয়া সেই অভিযোগে বলা হয়, ২০১২ সালে ঈদগাঁও পুলিশ ফাঁড়িতে যোগদানের পর থেকে মনজুর কাদের ভুইয়া বিভিন্ন ক্রসফায়ার, মাদকের অভিযোগে সাধারণ মানুষকে ধরে এনে আটক বাণিজ্য, চাঁদাবাজি, মিথ্যা মামলা দিয়ে মানুষকে হয়রানি ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ আত্মসাৎ করেছেন তৎকালীন এসআই মনজুর কাদের ভুইয়া বর্তমানে ওসি হিসাবে চকরিয়া থানায় কর্মরত ।
ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়া তার অবৈধ টাকা দিয়ে নিজ জেলা ফেনী ও শশুর বাড়িতে আলিশান বাড়ি নির্মাণ করেছেন বলেও অভিযোগ করেছেন। অনুসন্ধানে জানা গেছে, চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহর এলাকায় ১১ শতাংশ জমির মধ্যে ৭ তলা ভবন, দেওয়ানহাট এলাকায় ৫ শতাংশ জমিতে ১১ তলা ভবন, রাজধানীর উওরায় তিনটি ফ্ল্যাট, ফেনী শহরে ৪৫ শতাংশ জমি, নিজ গ্রামে ৫ একর কৃষি জমি, শুশুর বাড়িতে ৭ একর জমি কিনেছেন। সব মিলিয়ে ওসি মনজুর কাদের ১৯ কোটি টাকার মালিক। কক্সবাজার ঈদগাহ পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত থেকে ২০১২/১৩ সালে আয় করেছেন।

এদিকে দুদকে তার বিরুদ্ধে দেয়া অভিযোগগুলোকে মিথ্যা ও বানোয়াট বলে উল্লেখ করেছেন অভিযুক্ত ওসি মঞ্জুর কাজে ভুইয়া। তিনি বলেন, ইতিমধ্যে আমার বিরুদ্ধে দৈনিক যুগান্তর ও আলোকিত বাংলাদেশ পত্রিকায় মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করেছেন। যা একটি কথাও সত্য নয়, ভুয়া ভিত্তিহীন। আমি টাকা না দেওয়ায় তারা আমার বিরুদ্ধে রিপোর্ট করেছেন। ওসি বলেন, আমার কোন অবৈধ টাকা নেই। এসবের কারনে এক সাংবাদিককে দ্রুত বিচার আইনে মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠিয়ে। আমার বিরুদ্ধে দুদকে মিথ্যা অভিযোগ দেয়া হয়েছে। দুদক অভিযোগ তদন্ত করলে সত্যতা বেরিয়ে আসবে। চকরিয়া থানার ওসি মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়া ক্ষমতার অপব্যবহার করে অনিয়ম-দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও লুটপাটের মাধ্যমে গত ১২ বছরে নামে-বেনামে অঢেল সম্পদ বানিয়েছেন তিনি; তার বিরুদ্ধে দুদকে এমন অভিযোগ দেন ঈদগাহ স্থানীয় কয়েকজন ভুক্তভোগী।