নিজস্ব প্রতিবদেক, নেত্রকোণার আলো ডটকম:
প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপদগ্রস্ত দেশের একটি অংশ হলেও, আনন্দের ধ্বনি সমাগত। আতঙ্কের মধ্যেও চারদিকে চলছে সাজসজ্জা আর প্রার্থনার প্রস্তুতি। শরতের কাশফুলের স্নিগ্ধ দোলায় প্রকৃতি সৌন্দর্যের বার্তা দিচ্ছে। এরই মাঝে খগ্দ-ত্রিশূলসহ দেবী দুর্গা মণ্ডপে মণ্ডপে ঠাঁই নেবেন। বাকি শুধু আনুষ্ঠানিকতা।
দীর্ঘ এক বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আজ বুধবার মহাষষ্ঠীর মাধ্যমে শুরু হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপূজা, যা ১৩ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে।
নিরাপত্তা ও প্রস্তুতি:
এবারের পূজায় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশ, র্যাবসহ বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে। রাজনৈতিক দলগুলোর স্বেচ্ছাসেবীরাও থাকবেন শৃঙ্খলা রক্ষায়। প্রতিটি মণ্ডপে থাকবে আলাদা টিম।
এ বছর সারাদেশে ৩১,৪৬১টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা উদযাপিত হবে। ঢাকা মহানগরে পূজা হচ্ছে ২৫২টি মণ্ডপে। গত বছরের তুলনায় এবার এক হাজারের মতো মণ্ডপ কমেছে।
তিথি ও সময়সূচি:
লোকনাথ পঞ্জিকা অনুযায়ী,
৯ অক্টোবর: মহাষষ্ঠী
১০ অক্টোবর: মহাসপ্তমী
১১ অক্টোবর: মহাষ্টমী ও কুমারী পূজা
১২ অক্টোবর: মহানবমী
১৩ অক্টোবর: বিজয়া দশমী ও প্রতিমা বিসর্জন
রামকৃষ্ণ মিশনের নির্ঘণ্ট অনুযায়ী, বুধবার সকাল ৬টা ১০ মিনিটে দুর্গাদেবীর আমন্ত্রণ ও অধিবাস এবং ষষ্ঠী পূজা বিকাল ৫টার পর শুরু হবে।
পূজামণ্ডপে বিশেষ সতর্কতা:
এবার পূজামণ্ডপে ব্যাগ-থলে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে মণ্ডপে নারী ও পুরুষের জন্য আলাদা প্রবেশপথ ও প্রস্থানপথ রাখা, সিসি ক্যামেরা ও অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র স্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আতশবাজি ও পটকা ফোটানোও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
সংস্কৃতিক আয়োজন:
ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরসহ বিভিন্ন মণ্ডপে ভক্তিমূলক সংগীতানুষ্ঠান, আরতি প্রতিযোগিতা, মহাপ্রসাদ বিতরণ, স্বেচ্ছা রক্তদান এবং বিজয়া শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে।
দুর্গাপূজার ছুটি:
এ বছর দুর্গাপূজার ছুটি একদিন বাড়ানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার ১০ অক্টোবরও ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এ হিসেবে সরকারি চাকরিজীবীরা টানা চার দিনের ছুটি পাচ্ছেন।