বিএনপি-জামায়াত দমনে ‘দানবের ভূমিকায় ছিলেন ওসি মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়া

বিএনপি-জামায়াত দমনে ‘দানবের ভূমিকায় ছিলেন ওসি মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়া

হায়দার আলী,কক্সবাজার: কক্সবাজার জেলার চকরিয়া থানার বর্তমান ওসি মনজুর কাদেও ভূইয়া ফেনীর ছাগলনাইয়া। পুলিশে যোগদানের পর থেকে নানা কারণে হয়েছেন আলোচিত-সমালোচিত। বিশেষ করে উপপরিদর্শক (এসআই) থাকাকালে কক্সবাজার ঈদগা তদন্তকেন্দ্র কর্মরত ছিলেন। ২০০৩ সালে বিএনপির আমলে নিয়োগ হলেও স্বৈরাচারী সরকারের আমলে বিএনপি -জামায়াত দমনে ‘দানবের ভূমিকায় ছিলেন মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়া। আল্লামা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীর রায় ঘিরে এই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগে তদন্ত শুরু হয়েছে। বিএনপি অধ্যুষিত ফেনী এলাকার বাসিন্দা হলেও এই মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়া গোপালী পুলিশের চেয়ে ভয়ংকর ছিল। চকরিয়া থানায় তার পদায়নের খবর ছড়িয়ে পড়লে ভুক্তভোগীদের মাঝে ক্ষোভের সঞ্চার সৃষ্টি হয় এবং তাকে প্রত্যাহারের দাবি তুলেন অনেকেই। হয় মানববন্ধনও। স্থানীয়দের তথ্য মতে, বর্তমান ঈদগাঁও উপজেলাটি কক্সবাজার সদরের অংশে ছিল। ওই সময়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় তত্বাবধানে চললো ঈদগাঁও তদন্ত কেন্দ্রটি। স্বৈরাচারী সরকারের আমলে দীর্ঘ দিন ঈদগাঁও পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের আইসি অফিসার হিসাবে দায়িত্বে ছিলেন মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়া। ওই সময় তিনি অনেকটা বিএনপি-জামায়াত দমনে ব্যাপক ভূমিকা রাখেন।

এমনকি স্বৈরাচারী সরকারের মহলকে খুশি করতে গায়েবী মামলা দেয়া তার নেশায় পরিনত হয়। বিএনপি-জামায়াতের একাধিক নেতা ও অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ঈদগাঁতে গায়েবী মামলার মাস্টারমাইন্ড হিসেবে পরিচিত এই মনজুর কাদের ভূইয়া। ২০১২-১৪ সাল পর্যন্ত ঈদগাঁও তদন্ত কেন্দ্রের আইসি থাকাকালীন নানা অপকর্মের জন্ম দেন। প্রাপ্ত তথ্য মতে, ২০১৩ সালের শুরুর দিকে আল্লামা সাঈদীর মামলার রায় পরবর্তী বিক্ষোভ দমনে ঈদগাঁও পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সামনে রশিদ নামের এক ব্যক্তিকে ‘পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জে প্রথমে গুলি করে ও পরে তদন্ত কেন্দ্রের ভিতরে নিয়ে গিয়ে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করেন মনজুর কাদের ও তার অপর সহযোগী সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) রূপন চৌধুরী।

এ ঘটনায় বিএনপি- জামায়াত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন তিনি। (মামলা নং জিআর ১৬৫/ ২০১৩)। এছাড়া ঈদগাঁওকে ঘটনাস্থল দেখিয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় ডজনখানেক গায়েবী মামলা দায়ের করেন তিনি। তখন ঈদগাঁও বাজারের ব্যবসায়ীস বিভিন্ন শ্রেণী পেশার লোকজনকে গনহারে আটক করে তদন্ত কেন্দ্রে নিয়ে আসতেন। পরে দাবীকৃত পরিমান টাকা না দিলে অকথ্য নির্যাতনের পর গায়েবী মামলায় আটক দেখিয়ে চালান দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। ওই সময়ে এই ওসি মনজুর কাদের ভূইয়া বিরুদ্ধে ঈদগাঁওর হাজারো সাধারণ জনতাকে আসামী করে গায়েবি মামলা দায়ের করার নজির রয়েছে। এর মধ্যে জি আর ৯৩৬ /২০১২, ৯২১ /১২, ১৫০/২০১৩, ১৫১ /১৩, ৮৮৯/১৩, ১৬৫/১৩ ও জি আর ১১/২০১৪ সহ অনেক গায়েবী মামলার নায়ক তিনি। তার পদায়নের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় কযেকজন ভুক্তভোগী ঈদগাঁওতে কর্মকালীন সময়ে তার অত্যাচারের বিষয়ে বণর্না দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তাকে প্রত্যাহারের দাবি তুলেন। অনেকেই তার বিরুদ্ধে পূর্বের ঘটনায় মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানান।

অপরদিকে এই আলোচিত মনজুর কাদের ভূইয়া বিরুদ্ধে ঈদগাঁও থাকাকালীন মামলা বাণিজ্য, মানব পাচারকারীদের সাথে সখ্যতা সহ নানা অভিযোগের পাহাড় রয়েছে। ওসি হিসেবে দায়িত্ব এই প্রথম চকরিয়া থানায়। যোগদান করেই প্রথম টার্গেট করেন সাংবাদিকদের। ১২ বছর ধরে ঘরেফিরে চট্রগ্রামের বিভিন্ন থানায় কর্মরত আছেন। তিনি চট্রগ্রামের বাইরে চাকরী করতে নারাজ। তার অপকর্ম নিয়ে কোন সাংবাদিক সংবাদ প্রকাশ করলেই শুরু হয়ে যায় এ্যাকশন। নতুন ইন্সপেক্টর থেকে সর্বশেষ পদায়ন হন চকরিয়া থানার ওসি হিসেবে। সাংবাদিকদের হুমকি দিয়ে বলেন, আপনারা হয়তো জানেন না আমি নিজেও একজন বিএনপি নেতার ভাই। আমি সরাসরি বিএনপির লোক (তারেক ভাই! ভাই আমাকে এখানে পাঠিয়েছেন) এমন মন্তব্য করে আলোচনায় এসেছেন তিনি।

ঈদগা পুলিশ ফাড়ীঁতে থাকাকালে অপরাধ জগত মাথা নাড়া দিয়ে উঠেছিলো। জুয়া, মামলা বানিজ্য মাসিক আয় ছিলো কয়েক লক্ষ টাকা। ভারতীয় চোরাচালানের শেল্টার দিয়ে হাতিয়েছেন কাড়ি কাড়ি টাকা। আর নিরিহ মানুষের নামে মামলা বাণিজ্যতো রয়েই গেলো। তিনি ওসির চেয়ারে বসে এখন ক্যাডারের ভুমিকা পালন করছেন। কক্সবাজার ঈদগা ফাড়ীঁতে ছিলেন এক মুর্তিমান আতংক: ২০১২-১৪ বিএনপি জামায়াত নেতাকর্মীদের ফাড়ীঁতে নিয়ে এসে অমানষিক নির্যাতন করতেন তিনি। রাজনৈতিক মামলার ভয় দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছিলেন ওসি মনজুর। ঈদগার স্থানীয় আতিকুল জানান, আমার কাছে টাকা নেই। মনজুর কাদের বলেন, জায়গা বিক্রি করে ৫০ লাখ পেয়েছিস, কে বলেছে তোর কাছে টাকা নেই। এরপর চলতে থাকে নির্যাতন। পার্শ্ববর্তী গ্রামের বাসিন্ধা হওয়ায় সাথে আগেই অনেক পুলিশ সদস্যর পরিচয় ছিলো।

এক পর্যায়ে ওসি মনজুর কাদের নিজে আতিককে মাটিতে ফেলে বুকের উপর পা দিয়ে চাপ দিয়ে বলেন, টাকা দিবেন কিনা। না হলে বুঝতে পারছেন কি হবে ? এই নির্যাতন দেখে এক এএসআই নিজের কান্না থামাতে পারেননি। চোখ মুছতে মুছতে বলেছিলেন, স্যার আমরা এই এলাকায় থাকি। আমি জানি ও জায়গা বিক্রি করেনি। কোন টাকা নেই ওর কাছে কোথায় থেকে দিবে? আমরা ওই এলাকায় জমি কিনে বাসা বাড়ি করেছি। আর এভাবে নির্যাতন করলে আমরা মুখ দেখাবো কি করে। প্লিজ স্যার নির্যাতন বন্ধ করেন। তখন সাবেক এসআই মনজুর বর্তমানে ওসি চকরিয়া এএসআইকে হুমকি দিয়ে বলেছেন বেশি কথা বললে তোর চাকরি খেয়ে নিবো। অথচ ওসি ও এসআইয়ের বাড়ি ফেনী একই এলাকায়। কিন্তু ওসি মনজুর কাদের টাকার জন্য উন্মাদ হয়ে যেতেন।

গত ৫ আগষ্ট শেখ হাসিনা সরকার পরিবর্তন হওয়ার পর বদলী ১৭ আগস্ট পোষ্টিং দেওয়া হয় পুলিশ পরিদর্শক মনজুর কাদের। অথচ এই মনজুর কাদেরের বিভিন্ন কর্মকান্ডে অতিষ্ট্য হয়ে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা স্বরুপ তার সার্ভিস বুক এ নাকি স্পষ্ট লেখা রয়েছে। যদিও নতুন এসপি এ বিষয়ে এখনো কিছু অবগত নয়। চকরিয়া থানায় যোগদান করার পর পুলিশ কর্মকর্তা নিজের পুরাতন স্বভাবে ফিরে এসেছেন। ফিটিং মামলা দিয়ে হয়রানী তদন্ত ছাড়া মামলা বাণিজ্য সবই চলছে সমান তালে। সম্প্রতি তিনি ইয়াবা প্রভাবশালী চক্রের নিকট থেকে ২০ লক্ষ টাকা নিয়ে সাংবাদিক মনসুর আলম মুন্নাকে গেফতার করেন। ্রপুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ আগস্ট সরকারের পটপরিবর্তনের পর এই প্রথম একযোগে সব থানার ওসি পদে বদলি করা হয়েছে। তবে সম্প্রতি তিনি পুলিশ পরিদর্শক হয়েই ওসি হিসাবে পদায়ন হয়েছেন।

( এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। )

Comments are closed.




© All rights reserved © 2024 websitenews24.com