নিজস্ব প্রতিবেদক : কৌশল পরিবর্তন করে কক্সবাজার থেকে ময়মনসিংহে ইয়াবা পাচার করা হচ্ছে—এমন তথ্য জানিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। সংস্থাটির অভিযানে ৪০ হাজার পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের মধ্যে একজন নারীও রয়েছেন। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—কলিমা আক্তার ওরফে রোজি (৩০) এবং মো. তানজিল (৩২)। তারা কক্সবাজার আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে ময়মনসিংহের সেলিম সাজ্জাদ নামের একজনকে তাদের শীর্ষ গডফাদার হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
ডিএনসির উপপরিচালক মোহাম্মদ মামুন এসব তথ্য নিশ্চিত করে জানান, অভিযানের সময় রাজধানীর বংশাল ও ওয়ারী এলাকার চিহ্নিত মাদক কারবারি মো. তানজিলকে ৫০ পিস ইয়াবা বিক্রির সময় হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্য এবং জব্দ ইয়াবার সূত্র ধরে কক্সবাজারের টেকনাফকেন্দ্রিক একটি নতুন মাদক চক্রের সন্ধান পাওয়া যায়। তিনি আরও জানান, এই চক্রের প্রধান হিসেবে ময়মনসিংহের সেলিম সাজ্জাদ নাম উঠে আসে। গত ডিসেম্বর মাসে সেলিম সাজ্জাদ তিন দিন কক্সবাজার এলাকায় অবস্থান করেছিলেন বলেও তথ্য পাওয়া গেছে।
ডিএনসি জানায়, রোজির জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে জানা গেছে—আগে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে ইয়াবা ও আইস বাহকের মাধ্যমে সরাসরি ঢাকায় পৌঁছে দেওয়া হতো। তবে সম্প্রতি ডিএনসি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান এবং বিভিন্ন চেকপোস্টের কারণে বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দ হওয়ায় পাচারকারীরা কৌশল পরিবর্তন করেছে। নতুন কৌশলে তারা অল্প অল্প করে ইয়াবা এনে ময়মনসিংহ ও রাজধানীর ডেমরাসহ বিভিন্ন এলাকায় ভাড়াটিয়া সেজে অবস্থান নেয়। চিকিৎসা, হকারি ব্যবসাসহ নানা অজুহাতে কক্সবাজারে অবস্থান করে তারা নিয়মিত স্থান পরিবর্তন করে থাকে। ডিএনসি সূত্র জানায়, ময়মনসিংহের মাদক কারবারিরা কক্সবাজারের মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে টাকা পৌঁছে দিলে, তাদের মাধ্যমেই রাজধানীর বিভিন্ন মাদক ব্যবসায়ীর কাছে ইয়াবা সরবরাহ করা হতো।