বিশেষ প্রতিনিধি: ময়মনসিংহে ৯ জন ইয়াবা কারবারি ও কথিত সাংবাদিকসহ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ময়মনসিংহ প্রেস ক্লাবের পক্ষ থেকে যৌথ বাহিনীর কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ময়মনসিংহ জিলা স্কুল এলাকার একজন ঔষধ ব্যবসায়ীও এ বিষয়ে পৃথক অভিযোগ করেছেন। অভিযোগপত্রে ইয়াবা কারবারি সাদিকুল ইসলামসহ মোট ৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা বিভিন্ন মামলার কপি সংযুক্ত করা হয়েছে। ময়মনসিংহ প্রেস ক্লাব সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগপত্রে গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ও তিনটি ল্যাপটপ চুরির বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে। সাংবাদিকরা জানান, সংশ্লিষ্ট সব তথ্য ও নথি যৌথ বাহিনীর কাছে তৎক্ষণাৎ হস্তান্তর করা হয়েছে।
এর আগে সাদিকুল ইসলামসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে ময়মনসিংহ প্রেস ক্লাবের পক্ষ থেকে আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। ওই মামলায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন।
সাদিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুইজন সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকির ঘটনায় ইতোমধ্যে দুটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করা হয়েছে। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে ময়মনসিংহ কোতোয়ালি থানায় আরও ১৪টি জিডি রয়েছে, যেগুলোও বিভিন্ন সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে দায়ের করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সব জিডির কপি পুলিশের হেডকোয়ার্টার্সের কমপ্লেইন সেলে জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ময়মনসিংহের পতিতাপল্লীর সরদারনি লাভলী আক্তারের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন সাদিকুল ইসলাম। এ ঘটনায় লাভলী আক্তার বাদী হয়ে ময়মনসিংহ আদালতে চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেন। মামলায় সাদিকুল ইসলামসহ তিনজনকে আসামি করা হয়েছে। মামলাটি বর্তমানে ময়মনসিংহের পিবিআই গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করছে।
এ ছাড়া ময়মনসিংহ যৌনপল্লী থেকে সাদিকা আফরিন নামের এক নারীকে ভারতে পাচারের উদ্দেশ্যে কুমিল্লায় বিক্রি করার অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে ওই নারী ১৬ জানুয়ারি কুমিল্লা থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার প্রধান আসামি সাদিকুল ইসলামসহ আরও দুইজন। ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার এক সাবেক উপপরিদর্শক (এসআই) নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “সাদিকুল ইসলাম একজন পেশাদার ইয়াবা কারবারি। সাংবাদিকতা তার জন্য একটি ঢাল মাত্র। আমি ব্যক্তিগতভাবে তার দুটি মাদক মামলার তদন্ত করেছি।” তিনি আরও জানান, সাদিকুল ইসলাম দুই সাংবাদিককে হাত-পা কেটে দেওয়ার হুমকি দিয়ে পাঠানো অডিও প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে জিডি হিসেবে জমা রয়েছে এবং এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন।
ময়মনসিংহ প্রেস ক্লাবের সিনিয়র সাংবাদিক মিলনকেও দুই হাত ও এক পা কেটে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন সাদিকুল ইসলাম—এমন অভিযোগ রয়েছে। এ সংক্রান্ত একটি অডিও রেকর্ড থানায় জমা দেওয়া হয়েছে ।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, সাদিকুল ইসলামের পরিচালিত একটি মাদকাশ্রয়ে মাদকসেবীদের সুস্থ করার নামে পুনরায় মাদক সেবনে উৎসাহিত করা হয় এবং তাদের পরিবারের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করা হয়। এ বিষয়ে একাধিক ভুক্তভোগী অভিযোগ করেছেন।
অভিযুক্তের বক্তব্য এ বিষয়ে সাদিকুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগগুলো অস্বীকার করে বলেন, “আমরা ছাড়া ময়মনসিংহ প্রেস ক্লাবের সবাই ভুয়া সাংবাদিক। আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতা বিভাগে পড়াশোনা করেছি। আগে আনন্দমোহন কলেজে শিক্ষকতা করেছি। বর্তমানে আমি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। দলের শীর্ষ নেতারাও আমার সঙ্গে পরামর্শ করেন।”
তিনি আরও দাবি করেন, “আমি এখন একজন ক্রাইম সাংবাদিক। পুলিশসহ যারা অপরাধ করে, তাদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। আমার কোনো নিউজ করতে হয় না—ফেসবুকে লিখলেই অনেকের চাকরি চলে যায়। প্রশাসনের অনেকেই দুর্নীতিবাজ, তাদের শিক্ষা দেওয়া হবে।” সাদিকুল ইসলাম আরও বলেন, “আমার ৩৫ জনের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট আছে। শহরে আমরা যা বলি, তাই হয়।” তার এসব বক্তব্যের অডিও রেকর্ড সংরক্ষিত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।