নিশু ত্রিশাল সংবাদদাতা : ময়মনসিংহের ত্রিশাল পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আলম খানের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, হয়রানি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য এবিএম আনিছুজ্জামানের আশীর্বাদ ও ছত্রচ্ছায়ায় আলম দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় দাপট দেখিয়ে এসব কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের পৌরসভা নির্বাচনে ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন আলম খান। নির্বাচিত হওয়ার পরই তৎকালীন এমপি ও পৌর মেয়রের প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় এক ধরনের ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেন তিনি। অভিযোগ রয়েছে, অবৈধ জমি দখল, চাঁদাবাজি, লুটপাট, হয়রানি এমনকি মাদক ব্যবসার সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততা ছিল।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০২৩ সালে ত্রিশাল প্রেসক্লাবের এক সদস্যের বোন নিজ বাড়িতে ঘর নির্মাণ করতে গেলে সাবেক কাউন্সিলর আলম পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আলমের নেতৃত্বে তার সহযোগীরা ওই পরিবারের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা তখন প্রকাশ্যে মুখ খুলতে পারেননি বলেও জানান স্থানীয়রা। ৫ আগস্ট আওয়ামী সরকার পতনের পর সাবেক এমপি আনিছুজ্জামান পলাতক হলেও আলম খানের দাপট কমেনি বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, কাউন্সিলরের পদ হারালেও এখনো তিনি এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে যাচ্ছেন। ৬ নম্বর ওয়ার্ডে ঘরবাড়ি নির্মাণ বা কোনো কাজ করতে গেলে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে ভুক্তভোগীদের পরিবারের সদস্যদের হুমকি ও হয়রানির শিকার হতে হয় বলে অভিযোগ।
৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা রুহুল আমিন অভিযোগ করে বলেন, প্রায় ৪০ বছর আগে কেনা নিজের জমিতে ঘর সংস্কারের কাজ করতে গেলে আলম খান তার কাছে ১০ লাখ টাকা দাবি করেন। তিনি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গত ২ ফেব্রুয়ারি রাতে তার ছেলেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়। এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আলম খানের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও ভয়ে অনেকেই প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পাচ্ছেন না। কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে ধরে নিয়ে নির্যাতন বা মামলা দিয়ে হয়রানির হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের আমলে সাবেক এমপি আনিছুজ্জামানের আশ্রয়ে এসব কর্মকাণ্ড চালালেও বর্তমানে কিছু রাজনৈতিক প্রভাবশালীর ছত্রচ্ছায়ায় তিনি এখনো তৎপর রয়েছেন। এ বিষয়ে আলম খানের বক্তব্য জানতে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।