বিশেষ প্রতিনিধি : ঈশ্বরগঞ্জের ৫ নং জাটিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি ভাইয়া বাহিনীর প্রধান শামসুল হক ঝন্টু সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আছেন। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, ২০২০ সালের পরে যুবলীগে যোগ দেওয়ার পর থেকে, ২০২২ সালে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়া পর্যন্ত তিনি এককভাবে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করেছেন।
প্রথমে চাঁদা তোলা ও জমির দালালির মাধ্যমে শুরু হওয়া শামসুল হক ঝন্টুর কার্যক্রম আওয়ামী লীগের ক্ষমতার সাথে সমান্তরালভাবে বৃদ্ধি পায়। সাবেক এমপি মাহমুদুল হাসান সুমনের নাম ব্যবহার করে কোটি কোটি টাকা চাঁদাবাজি, সাধারণ মানুষের জমি দখল এবং মামলা বাণিজ্য চালিয়ে তিনি এলাকায় দাপট দেখিয়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, শামসুল হক ঝন্টুর অনুমতি ছাড়া জাটিয়া ইউনিয়নের জমি বেচাকেনা প্রায় অসম্ভব। তাঁর ভয়ে স্থানীয়রা মুখ খোলার সাহস পাননি। ২০১৮ সালে জমি দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগে পুলিশের হাতে একাধিকবার আটক হওয়া সত্ত্বেও, ঝন্টু স্থানীয় রাজনীতিতে প্রবল প্রভাব রাখতে সক্ষম হয়েছেন। ২০২৩ সালে তিনি এক সাংবাদিককে হত্যার হুমকিও দেন, যার পর সাংবাদিক থানায় জিডি করেছিলেন। জিডি নং- ২৩৫।
সাবেক এমপি সুমনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সুযোগ নিয়ে শামসুল হক ঝন্টু চাঁদাবাজি, জমি দখল, বালু ভরাট, হাট ইজারা নিয়ন্ত্রণ বিস্তৃত করেছেন। প্রয়োজন পড়লে জমি দখলে তার নিজস্ব “ভাইয়া বাহিনী” কাজে লাগান। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, ঝন্টু যেকোনো সরকারি বা ব্যক্তিগত সম্পদ দখল ও চাঁদাবাজিতে কোনো বিবেচনা ছাড়াই নেশার মতো নিয়োজিত ছিলেন। শামসুল হক ঝন্টুর এই দাপট ও অবৈধ অর্থ সম্পদের পাহাড় স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয় ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।