জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক: খালেদা জিয়া-কে নিয়ে অশ্লীল বক্তব্য দেওয়ার মামলার এক অভিযুক্তের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। অভিযুক্ত ব্যক্তি সোবেদ আলী রাজা নিজের প্রতিষ্ঠানের তথ্য গোপন করে সাংবাদিক পরিচয়ে প্রেস অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড সংগ্রহ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। যার পিআইডি নং- ৮৭৫৭।
অভিযোগ রয়েছে, তিনি ডিএফপি তালিকাভুক্ত নয় এমন দৈনিক প্রলয় পত্রিকার নামে পিআইডি ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে সচিবালয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছেন। এছাড়া তিন কোটি টাকা দিয়ে ডিসি পদায়ন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে ডাক্তার-নার্স বদলি, ফায়ার সার্ভিস বাণিজ্য, পুলিশের এসআই নিয়োগ বাণিজ্যসহ বিভিন্ন অনিয়মের সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।
ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় ভূমি সহকারী নিয়োগের নামে ৯টি পরিবারের কাছ থেকে ৯ লাখ টাকা এবং রাজধানীর মিরপুরে একটি পুলিশ পরিবারের কাছ থেকে ৪৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষিতে তথ্য অধিদপ্তর তার প্রেস অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড বাতিল বিষয়ে গোয়েন্দা সংস্থা ও পিআইডি তদন্ত শুরু করেছে । তবে অভিযোগ রয়েছে, পরে অধিদপ্তরের এক শীর্ষ কর্মকর্তার মাধ্যমে আবারও অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড তৈরি করা হয় এবং আগামী সংসদ অধিবেশনে প্রবেশের জন্য সচিবালয়ের পাসও নেওয়া হয়েছে।
এদিকে মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, সোবেদ আলী রাজার বিরুদ্ধে তিনটি গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে। গোপন সূত্রে জানা গেছে, তিনি সংসদ অধিবেশনে প্রবেশের চেষ্টা করতে পারেন। তাকে পাওয়া গেলে গ্রেফতার করা হবে।এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সোবেদ আলী রাজার কাছে লিখিত ব্যাখ্যা চেয়ে নোটিশ দিয়েছে। কেন প্রেস অ্যাক্রেডিটেশন নীতিমালা অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না এবং দৈনিক প্রলয় পত্রিকার নিবন্ধন বাতিলের সুপারিশ করা হবে না—তা ৭ দিনের মধ্যে লিখিতভাবে জানাতে বলা হয়েছে।